মানিকগঞ্জ শহরের শহীদ রফিক সড়কের অনন্যা বস্ত্র বিতান। দোকানের কাছে যেতেই কর্মচারীরা হাঁকডাক শুরু করলেন ঈদের নতুন কালেকশন এসেছে জানিয়ে। বিশেষ করে তরুণীদের জন্য রয়েছে বাহারি পোশাক। ছবি তোলার সময় দোকানি বললেন, ‘ছবি তুলে কী লাভ? কাস্টমারদের আনাগোনা বেশি তাই তারা কয়েকদিন ধরেই দোকান খোলা। প্রশাসনের লোকজন আসার আগেই জানতে পারি। এরপর শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়।’
লকডাউনের মধ্যেই এভাবেই মানিকগঞ্জে ঈদের কেনাকাটা চলছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ মে থেকে দোকান খোলার কথা থাকলেও ৬ মে থেকেই মানিকগঞ্জ শহরের অনেক দোকান খোলা দেখা গেছে। সেসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড়ও রয়েছে। আর কমবেশি একই চিত্র শহীদ রফিক সড়কের অধিকাংশ বিপণী বিতানের। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে খোলা আছে লাইব্রেরি, মোবাইল, জুতা, কসমেটিকক্স, কোকারিজের দোকান।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন বলেন, কোনও দোকানপাট খোলা রাখার সুযোগ নেই। শহরে কয়েক দফায় অভিযান চালানো হয়েছে। তারপরও কেউ দোকান খুললে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার হবে।
বিভিন্ন ক্লথ স্টোরের মালিক ঈদের কেনাকাটার আমন্ত্রণ জানিয়ে ফেসবুকে দোকানের নাম ও মোবাইল পোস্ট করেছেন। সব দোকান বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে বিশেষ কায়দায় কিছু কিছু দোকান খুলতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে শহীদ রফিক সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, এ সড়কের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাপড়, গার্মেন্টস, টেইলার্স, কসমেটিক্স, জুতা, মোবাইল ফোনের দোকান খোলা রয়েছে। তবে কিছু কিছু দোকানের শাটার ছিল অর্ধেক খোলা দেখা গেছে। ভেতরে রয়েছেন ক্রেতা। প্রশাসনের লোকজন আসলে ঝড়ের বেগে ক্রেতাদের দোকানের ভেতরে রেখেই শাটার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের লোকজন চলে গেলে আবার শাটার খুলে বেচাকেনা শুরু হয়। সাবধানী ও কৌশলী দোকানদাররা গাড়ির শব্দ পেলেই ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা পুলিশ লোক মনে করে ঝটপট দোকানের দরজা বন্ধ করে দেন। আবার বেশ কয়েকটি দোকানের ছবি তুলতেই কাস্টমারদের ভেতরে শাটার বন্ধ করতে দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত এ পর্যন্ত মানিকগঞ্জে ২২ জন কোরনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর চারজনই শহীদ রফিক সড়ক সংলগ্ন বাসিন্দা।







