টাঙ্গাইলে হতদরিদ্র এক পরিবারের কিশোরী মেয়েকে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করেছেন সিরাজুল ইসলাম নামে ৫০ বছর বয়সী এনজিও মালিক।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ের ঘটনা ঘটলেও মঙ্গলবার (০১ মার্চ) বিষয়টি জানাজানি হলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের এক দিনমজুরের মেয়েকে (১৪) বিয়ে করেন একই উপজেলার দাইন্যা চৌধুরী গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। সিরাজ ওই এলাকায় ক্লাবভিত্তিক একটি এনজিও পরিচালনা করেন।
এলাকাবাসী জানান, ওই দিনমজুরের পরিবার হতদরিদ্র। এই সুযোগ নিয়ে রাতের আঁধারে এনজিও মালিক সিরাজুল ইসলাম অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটিকে বিয়ে করেন। তবে বিয়েটি দুই পক্ষের সম্মতিতেই হয়েছে। সিরাজুল ইসলামের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। আগের ঘরে তার ১৪ বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটির বিয়ে পড়ান নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) মাওলানা আফরাফ আলীর সহকারী আমিরুল ইসলাম।
সিরাজুল ইসলামের ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাবি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি অসুস্থ থাকায় পারিবারিকভাবে ভাইকে বিয়ে করিয়েছি। মেয়েটির পরিবার একেবারেই দরিদ্র। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়েটি হয়েছে। তবে মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক এটি সত্য।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য সোলাইমান মন্ডল বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে আমি মেয়েটির বাড়িতে গিয়েছিলাম। আগে জানলে এই বিয়ে হতে দিতাম না। মেয়ের পরিবার জানিয়েছে, অভাব-অনটনের কারণেই সিরাজের সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে। দুই পক্ষের সম্মতিতে বিয়ে হয়েছে। মেয়েটির বয়স ১৪ আর ছেলের বয়স প্রায় ৫০ হবে। এই ব্যক্তির সঙ্গে নাবালিকা মেয়ের বিয়ে দেওয়াটা ঠিক হয়নি।’
নিকাহ রেজিস্ট্রার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটির বিয়ের বয়স হয়নি। এজন্য আমি রেজিস্ট্রি করতে চাইনি। তারা কোনও কাগজপত্র দিতে পারেনি। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছি।’
কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জিন্নাহ বলেন, ‘বয়স্ক লোকের সঙ্গে নাবালিকার বিয়ে হওয়ার ঘটনাটি শুনেছি। ওই মেয়ের বাবা খুবই দরিদ্র। এছাড়া ওই ব্যক্তির স্ত্রী অসুস্থ থাকায় নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে করেছেন বলে জানিয়েছেন।’
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুন বলেন, ‘ঘটনাটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








