রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মাঠে মাঠে রোপা-আমন ধানসহ বিভিন্ন চারা রোপণের ধুম পড়েছে। পূব আকাশে রাঙা করে সূর্য উঠলে দল বেধে কৃষক ছুটে চলছে মাঠের দিকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা জমি করছেন প্রস্তুত, রোপণ করছেন ধানের চারা। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারেও ধানের চারা কেনা-বেচা বেড়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না চারা বিক্রেতা কৃষকরা।
উপজেলার ছোট ভাকলা, উজানচর, দেবগ্রাম, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকেরা দল বেধে ধানের চারা লাগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সবুজ ধানের কচি চারায় ভরে উঠছে মাঠ।
বুধবার গোয়ালন্দে সাপ্তাহিক হাটের দিন। সরজমিনে দুপুরে হাটে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক ও বেপারীরা বিভিন্ন জাতের ধানের চারা নিয়ে হাটে এসেছেন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরাও দূর-দূরান্ত থেকে হাটে এসে চারা সংগ্রহ করছেন। হাটে ব্রি-ধান ২৮, ব্রি-ধান ২৯, ব্রি-ধান ৩৯ সহ আরও নতুন বিভিন্ন জাতের চারা বিক্রি হচ্ছে।
হাটে আসা ধানের চারা বিক্রেতা আব্দুল খালেক বলেন, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমির জন্য ধানের চারা বিক্রি হচ্ছে ১৫০০-২৫০০ টাকায়। তবে চারার আমদানি বেশি থাকলেও ক্রেতা অনেক কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত দাম খুবই কম।
ধানের আরেক চারা বিক্রেতা মো. আফেল মোল্লা (৬৫) বলেন, এবার আমি ছয় বিঘা জমিতে কয়েক জাতের চারা তৈরি করেছিলাম। তবে এবার চারার দাম খুবই কম। কত টাকা লাভ হবে সেটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবার পুরাই লস। সব মিলিয়ে এবার চারা বিক্রিতে কোনও লাভ হবে না।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. খোকন উজ্জামান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৩০৫৫ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন ধানসহ বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। তবে এবার ২৫২০ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারে ধানের চারার দাম কম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, কৃষক বর্তমানে উন্নত জাতের ধানের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যেমন- ৮৯, ৯০, ৯১ জাতের চারার ধানে প্রায় ১০ টনের বেশি ফসল হয়। ২৮, ২৯ জাত যেহেতু অনেক পুরাতন। এ কারণে অনেক চাষি এ চারা কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন না। কৃষক চায় উন্নত জাতের ধান চাষ করতে। আমাদের কাছে পরামর্শ নিতে এলে এবং মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের উন্নত জাতের চারা রোপণের বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি।









