গাজীপুরের কাশিমপুর থানায় পুলিশি নির্যাতনে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর গর্ভপাতের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে ওই নারীর মেডিক্যাল ওয়ার্ডে পাহারা বসিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশের পাহারার দরকার নেই বলে জানিয়েছেন নির্যাতনের শিকার নারী।
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই নারী। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ কনস্টেবলের মারধরের ফলে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীর গর্ভপাত হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে কেউ যাতে বিরক্ত করতে না পারে এই অজুহাতে হাসপাতালে তার ওয়ার্ডে পাঁচ দিন ধরে পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চিকিৎসাধীন নারী জানান, ছয় মাস আগে গাজীপুর মেট্রোপলিটন কাশিমপুর থানায় পর্নোগ্রাফির অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন তিনি। ওই মামলায় পুলিশ ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রাপ্তির কথা জানিয়ে তাকে দুজন সাক্ষীর নাম দিতে বলা হয়। ১ মার্চ দুপুরে কাশিমপুর থানায় তিনি সাক্ষী হিসেবে মা ও বোনের নাম দিতে যান। সেখানে গেলে তাকে নাম দেওয়ার জন্য নারী কনস্টেবল রুমার কাছে পাঠানো হয়। রুমা নামে ওই পুলিশ কনস্টেবল সাক্ষী হিসেবে নারীর মা এবং বোনের নাম লিখে রাখেন। নামের বিপরীতে তাদের ঠিকানা লিখে রাখার অনুরোধ জানালে কনস্টেবল তা করতে রাজি হননি। একপর্যায়ে ওই নারী বারবার ঠিকানা লিখতে বললে অশিক্ষিত বলে গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে কনস্টেবল ওই নারীকে পাশের দেয়ালে ধাক্কা দেন। এতে ওই নারী নাক ও পেটে আঘাত পান। পরে বাসায় গেলে নাক দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও পেটব্যথার কারণে স্বজনরা তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুন: পুলিশের নির্যাতনে নারীর গর্ভপাতের অভিযোগ, তদন্তে কমিটি
ওই নারী জানান, ঘটনার পরদিন ২ মার্চ থেকে কাশিমপুর থানা থেকে তার ওয়ার্ডে পুলিশি পাহারা বসানো হয়। অথচ পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেননি তিনি। তাকে যাতে কেউ বিরক্ত করতে না পারে এই অজুহাতে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মা-বোন এবং স্বামী ছাড়া কারও সঙ্গে তাকে সাক্ষাৎ করতে দিচ্ছে না পুলিশ। এমনকি তার সঙ্গে দেখা করতে গণমাধ্যমকর্মীদেরও পুলিশের অনুমতি নিতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব এ খোদা বলেন, নারী কনস্টেবলের সঙ্গে ওই নারীর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। ওই নারী থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ। হাসপাতালে নারীর ওয়ার্ডে তার অনুরোধেই পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি না চাইলে নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই নারী কাশিমপুর এলাকায় বসবাস করছেন। তার স্বামী গাজীপুর মেট্রোপলিটনে কর্মরত।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, ১ মার্চ রাত সোয়া ৯টায় ওই নারী হাসপাতালে ভর্তি হন। তার নাকে আঘাত লেগেছে। পরদিন তার গর্ভপাত ঘটেছে। আঘাত, আবহাওয়াজনিত কিংবা অন্য কারণে গর্ভপাত ঘটতে পারে। তবে ওই নারীর বেলায় কী কারণে ঘটেছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কনস্টেবল রুমাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।








