গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি বিক্রির বায়নার টাকা উদ্ধারের সালিশ বৈঠকে প্রকাশ্যে এক যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শ্রীপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহীনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের হামলায় ওই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২২ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের হামলার শিকার লাইছুদ্দিন ও স্থানীয়রা জানান, শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের রমজান আলী মুন্সী আনুমানিক সাত মাস আগে পাশের কাপাসিয়া উপজেলার বাসিন্দা মাহমুদার থেকে সাড়ে তিন গণ্ডা জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে পাঁচ লাখ টাকা বায়না করেন। ওই নারী জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বায়নাকৃত সাড়ে তিন গণ্ডা জমি বনের জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করেন। পরে ওই নারী জমির মালিক রমজান আলী মুন্সীর কাছে জমির টাকা ফেরত চান।
তবে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে রমজান আলী মুন্সী কালক্ষেপণ শুরু করেন। পরে ভুক্তভোগী নারী শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনা নিষ্পত্তির জন্য থানা থেকে কয়েকবার সালিশ বৈঠকে বসার কথা বলা হলেও রমজান আলী মুন্সী কালক্ষেপণ করেন। এক পর্যায়ে রমজান আলী মুন্সী তার বাড়িতে সালিশ বৈঠকে বসার অনুরোধ জানান।
শুক্রবার (২২ এপ্রিল) বিকালে শ্রীপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহীনের উপস্থিতিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য রমজান আলী মুন্সীর বাড়িতে সালিশ বসে। বৈঠকে কথাবার্তার এক পর্যায়ে রমজান আলী মুন্সীর ভাতিজা লাইছুদ্দিনকে উপস্থিত সবার সামনে এএসআই শাহীন মারধর শুরু করেন। পরে উপস্থিত লোকজন এএসআই শাহীনকে অবরুদ্ধ করে তার ওপর হামলা চালায়। পরে উভয়কেই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশের হামলার শিকার লাইছুদ্দিন দাবি করেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে সব ফয়সালা হওয়ার পর আমি শুধু বলেছি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে স্বাক্ষর নিয়ে টাকা পরিশোধ করা হবে। যাতে পরবর্তীতে কোনও পক্ষ অস্বীকার করতে না পারে। এ কথা বলার পর এএসআই শাহীন উপস্থিত সবার সামনে আমাকে মারধর শুরু করেন।’
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া বলেন, ‘বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে এএসআই শাহীন জমি সংক্রান্ত সালিশ বৈঠকে গিয়েছিলেন। সেখানে বিবাদী পক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা করেছে। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় থানা থেকে ফোর্স গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে। তবে এএসআই শাহীন কাউকে মারধর করেছে কিনা সে বিষয়ে কোনও অভিযোগ পাইনি।’
গাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মাদবর বলেন, ‘ফরিদপুর গ্রামে গণ্ডগোলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে জানতে পারি এক নারী জমি কিনেছেন। পরে আর টাকা দিতে পারবেন না বলে বায়নার টাকা ফেরত চান। থানার এক দারোগা বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৈঠকে এসে টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় উত্তেজিত হয়ে লাইছুদ্দিনকে থাপ্পড় দেন। এ ঘটনার নিষ্পত্তির জন্য শনিবার (২৩ এপ্রিল) আমরা শ্রীপুর থানার ওসির অফিসে বসবো।’
স্থানীয়দের হামলার শিকার এএসআই শাহীনের মোবাইলফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।









