ছুটি ও কোনও অনুমতি না নিয়েই দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে আসছেন না রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুজন সহকারী শিক্ষিকা। তারা হলেন- উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের দেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রোজিনা খাতুন ও একই ইউনিয়নের মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুমাইয়া সুলতানা। অনুমতি ও ছুটি না নিয়েই প্রায় দুই বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন তারা।
এর মধ্যে সুমাইয়া সুলতানা কোনও অনুমতি ও ছুটি নেননি। আর রোজিনা খাতুন মাত্র দুদিনের ছুটি নিয়েছিলেন। তাদের এমন কাজে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের দুটির শিক্ষা কার্যক্রম। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বালিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোজিনা ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট ও সুমাইয়া ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি সহকারী শিক্ষিকা পদে যোগ দেন। যোগদানের পর রোজিনা খাতুন ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসের ৮ এবং ৯ তারিখ দুই দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে আর বিদ্যালয়ে আসেননি। সুমাইয়া সুলতানা ২০২০ সালের ১৭ মার্চের পর থেকে ছুটি ছাড়াই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত আছেন। জানা গেছে, তারা দুজনই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
দেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুজ্জামান বলেন, ‘২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে দুদিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে সহকারী শিক্ষিকা রোজিনা খাতুন আর বিদ্যালয়ে আসেননি। পরে জানতে পারি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে জানানো হয়েছে। একাধিকবার তদন্তও হয়েছে।’
খালিয়া মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, ‘কোনও অনুমতি ও ছুটি ছাড়াই সুমাইয়া সুলতানা ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার পরিবার সূত্রে জানতে পেরেছি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তিনি আর চাকরি করবেন না। তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে জানিয়েছি। পদ শূন্য ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছি। পদশূন্য হলে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।’
নাম প্রকাশ না করা শর্তে দুই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, দুই শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয় দুটিতে পাঠদান ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সেই দুজন শিক্ষকের ক্লাস অন্য শিক্ষকদের নিতে হচ্ছে। এতে বাড়তি চাপ পোহাতে হচ্ছে। তারা চাকরি থেকে অব্যাহতি না দিয়ে কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত রয়েছে। এটা গুরুতর অন্যায়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বালিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল হক বলেন, ‘ছুটি ছাড়াই রোজিনা খাতুন ও সুমাইয়া সুলতানা নামে দুজন শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এরই মধ্যে কয়েকবার তদন্তও হয়েছে। জানতে পেরেছি, তারা দুজনই আমেরিকা রয়েছেন। খুব দ্রুত দুটি শূন্য ঘোষণা করা হবে। শিক্ষক পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে।’
রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে ইয়াসমিন করিমী বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক সুমাইয়ার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে চূড়ান্ত বরখাস্ত হবে। রোজিনা খাতুনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে শিক্ষা কর্মকর্তা। এখনও জবাব পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন পেলেই সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’









