গাজীপুরে ছেলে আশরাফুল আলমকে (৩৩) গলাকেটে হত্যার অভিযোগে বাবা ওমর ফারুক সবুজকে (৬০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রবিবার (৭ মে) দিবাগত রাতে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কান্দুরা গ্রামের মামা শ্বশুরবাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার দুপুরে আসামিকে জেলা সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাবিবের আদালতে তোলা হলে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতার আসামি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার কানুহারী (করাচাপুর) গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে। তিনি স্ত্রী দিলুয়ারা আক্তারকে (৫১) নিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় হযরত আলীর বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় এক পোশাক কারখানায় নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে চাকরি করতেন। ছেলে আশরাফুলও একই এলাকার একটি পোশাক কারখানায় ফিনিশিং শাখার সুইং অপারেটর পদে চাকরি করতেন এবং আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক হাফিজুর রহমান নিহতের মায়ের বরাত দিয়ে জানান, আশরাফুল উচ্ছৃঙ্খল ও মাদকাসক্ত ছিল। সে মাঝেমধ্যে বাবা-মার বাসায় এসে নেশার জন্য টাকা চাইতেন। টাকা না দিলে মারধর করতেন। শুক্রবার বাসায় এসে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদেরকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। পরে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টায় আশরাফুল স্থানীয় বাজার থেকে ধারালো চাপাতি কিনে এনে ভয় দেখায় এবং তার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য বাবার কাছে সাত হাজার টাকা চান। টাকা না দিলে তাদেরকে হত্যার হুমকি দেয়।
তিনি বলেন, ছেলে বাসায় আসায় ছোট ঘর হওয়ায় মা এক প্রতিবেশীর রুমে রাত যাপন করেন। রাত সাড়ে ৩টায় আশরাফুল আলমের পাশে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে গলাকেটে হত্যা করেন বাবা। পরে পাশের রুমে থাকা স্ত্রীকে কল করে দ্রুত ঘর থেকে বের হতে বলে। কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে তার স্ত্রীকে জানান, ছেলের কেনা চাপাতি দিয়েই তাকে হত্যা করেছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, দিলুয়ারা আক্তার তার স্বামীকে আসামি করে মামলা করলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।









