ফরিদপুরের সালথা থানার সাবেক ওসি শেখ সাদিক ও এসআই তন্ময় চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। বুধবার (১৫ আগস্ট) হাফিজুর রহমান মুন্নু নামে এক ব্যক্তি ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তিন নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি করেন।
মামলাটি আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক মারুফ হাসান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার বাদী হাফিজুর রহমান গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ছিলেন। তার বাড়ি জেলার সালথা উপজেলার ভাওয়াল গ্রামে।
ওসি শেখ সাদিক চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার বারাদী গ্রামের শেখ আমিন উদ্দিনের ছেলে। তিনি ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সালথা থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আর এসআই তন্ময় চক্রবর্তী রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ভররামদিয়া গ্রামের তাপস চক্রবর্তীর ছেলে। তিনি বর্তমানে জেলার বোয়ালমারী থানায় কর্মরত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদী বাদী হাফিজুর রহমান চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর গ্রামে ফিরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। একপর্যায়ে তার কাছে ওসি শেখ সাদিক ও এসআই তন্ময় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দিতেন। আর বলতেন, আপনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অনেক টাকা উপার্জন করে গ্রামে এসে
রাজনীতি করছেন। আমাদের ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে পরিণতি ভালো হবে না।
হাফিজুর রহমান চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ১১ মার্চ রাতে তাকে আটক করে থানায় এনে নির্যাতন করে হাত ও পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে তাদের পাঁচ লাখ টাকা দেন। এরপরও তাকে নির্যাতন করে পর দিন বিস্ফোরক মামলায় আদালতে চালান দেন।
ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তারা আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এরপর দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পাই। তবে ভয়ে আদালতে মামলা করতে পারিনি। এখন দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরে আসায় ন্যায় বিচারের আশায় মামলা করেছি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মামুন-অর-রশীদ বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।








