গাজীপুরের দুই কারাগারে দুই কয়েদির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ডিআইজি প্রিজন তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে গাজীপুর জেলা কারাগারে ও অপরজনের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ এ। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই দুই ঘটনা ঘটে।
কয়েদির ওমর ফারুক (৩৩) গাজীপুর জেলা কারাগারে ও দুলাল উদ্দিন (৫২) কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পার্ট-১ এ মারা যান।
ওমর ফারুক জেলার কাপাসিয়া উপজেলার টোকা ইউনিয়নের বীর উজ্জলী গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি ২০১৯ সালের কাপাসিয়া থানার একটি মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এবং সম্প্রতি কারাগারের ভেতরে কারা কর্মকর্তাকে মারধরের মামলারও আসামি। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পার্ট-১ এর কয়েদি দুলাল উদ্দিন একই উপজেলার কেন্দুয়াব গ্রামের মহিন উদ্দিনের ছেলে। তিনি কাপাসিয়া থানার একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
গাজীপুর জেলা কারাগারে জেল সুপার রফিকুল কাদের জানান, সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ওমর ফারুক কারাগারের সেলে বন্দি থাকা অবস্থায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিষয়টি কারারক্ষীদের নজরে এলে তাকে কারা অভ্যন্তরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে মুমূর্ষু অবস্থায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক তার মৃত্যুর সনদে ব্রড ডেথ বলে উল্লেখ করেছেন। এ ঘটনায় ডিআইজি প্রিজন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর জেল সুপার আল মামুনকে প্রধান করে অপর দুই সদস্যরা হলেন কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার ইব্রাহীম এবং কিশোরগঞ্জ কারাগারের জেলার সর্বোত্তম দেওয়ান।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ এর জেলার তরিকুল ইসলাম বলেন, বন্দি দুলাল মিয়া কাপাসিয়া থানার একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। বেশ কয়েকবার তাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে। গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি এই কারাগারে আসেন। সোমবার রাত ১১টার দিকে তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।









