শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ট্রাকসহ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০০ বস্তা সরকারি চাল আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ওই চাল রাখা হয়। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলা খাদ্যগুদামটি আংগারিয়া বাজারে অবস্থিত। ওই খাদ্যগুদাম থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০০ বস্তা চাল নিয়ে একটি ট্রাক জেলা শহরের ওপর দিয়ে জাজিরার দিকে যাচ্ছিল। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে চালসহ ট্রাকটি পালং মডেল থানার সামনের সড়কে আটকে দেন। তখন ট্রাকে থাকা লোকজন ওই চালের পক্ষে কোনও চালান দেখাতে পারেননি। পরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এক ডিলারের নামে বরাদ্দের একটি চালান নিয়ে হাজির হন সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
চালানটি সঠিক কি না, তা নিশ্চিত না হওয়ায় স্থানীয় লোকজন চালসহ ট্রাকটি নিতে দেননি। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ট্রাকটি নিয়ে চালক আংগারিয়া খাদ্যগুদামের দিকে রওনা দেন। তখন স্থানীয় লোকজন ট্রাকটি আবার শহরের চৌরঙ্গী এলাকায় আটকে দেন এবং গভীর রাতে চালসহ ট্রাকটি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ট্রাকের চাল পরিমাপ করে জব্দ করেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবির ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- গোসাইরহাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তরিকুল ইসলাম, জাজিরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ রাশেদ উজ্জামান ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।
শরীয়তপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এক ডিলারের নামে চালগুলো বরাদ্দ হয়েছে, এমন কাগজপত্র পেয়েছি। তারপরও ঘটনাটি তদন্তের জন্য চালগুলো জব্দ করে রাখা হয়েছে। আংগারিয়া খাদ্যগুদাম থেকে চাল বের করা হয়েছে। মজুত খাদ্যশস্য ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড যাচাইসহ চাল কীভাবে ও কোন খাতে গুদাম থেকে বের হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। কোনও অসঙ্গতি দেখা গেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’








