নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীগঞ্জ খেলার মাঠে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণে একনেকের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না সে মর্মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, পরিকল্পনা সচিব, গণপূর্ত নারায়ণগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রুল জারি করে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব চেয়েছেন আদালত।
রবিবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত একটি দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী।
আলীগঞ্জ খেলার মাঠে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রায় চারশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে আটটি ১৫ তলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব ভবনে ৬৭২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। গত ২২ মার্চ একনেকের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন করেন আলীগঞ্জ ক্লাব ও আলীগঞ্জ হাইস্কুলের সভাপতি কাওসার আহমেদ পলাশ।
রবিবার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে এ.এ.জি সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও বাদীপক্ষে মো. আমিমুল এহসান জুবায়ের অংশ নেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আমিমুল এহসান জুবায়ের তার ‘জুবায়ের অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট’ এর প্যাডে দেওয়া প্রেস রিলিজে জানান, গত ২২ মার্চ একনেকের বৈঠকে নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জ খেলার মাঠে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ১৫ তলা বিশিষ্ট আটটি আবাসিক ভবন নির্মাণের যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সেই সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে গত ৭ এপ্রিল আলীগঞ্জ ক্লাব ও আলীগঞ্জ হাইস্কুলের সভাপতি কাওসার আহমেদ পলাশ একটি রিট পিটিশন করেন। রবিবার শুনানি শেষে আদালত গত ২২ মার্চ একনেকের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না সে মর্মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, পরিকল্পনা সচিব, গণপূর্ত নারায়ণগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ আট কর্মকর্তার ওপর রুল নিশি জারি করেছেন এবং আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তাদেরকে রুলের জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
রিট আবেদন করা আলীগঞ্জ ক্লাব ও আলীগঞ্জ হাইস্কুলের সভাপতি কাওসার আহমেদ পলাশ জানান, গত বছর এই মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়সহ সাবেক জাতীয় ফুটবলাররা। ক্রীড়া উপমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন মাঠটিকে স্টেডিয়ামে রূপান্তরের বিষয়ে তিনি পদক্ষেপ নিবেন। আমরা কিছুদিন আগে ২৫ হাজার এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষর সম্বলিত একটি আবেদন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠিয়েছি। তবে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থে সেই স্মারকলিপিটি প্রধানমন্ত্রী বরাবর পৌঁছাতে দেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার রয়েছে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে খেলার মাঠ করার। সে হিসেবে ফতুল্লায় আলীগঞ্জ মাঠ ব্যতীত অন্য কোনও মাঠ নেই। ষড়যন্ত্রকারীরা চাইছে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার যাতে বাস্তবায়ন না হয়।
/বিটি/টিএন/







