মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউপি নির্বাচন নিয়ে সোমবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মোট ৭ জন আহত হয়েছেন। এসময় পুলিশ দু’টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি পুড়ে যাওয়া মোটরবাইক এবং ৩টি ফাঁকা গুলির খোসা জব্দ করেছে।
আহতরা হলেন, জেলা তরুণ লীগের সভাপতি মৃদুল দেওয়ান জালাল (৩৫), সাধারণ সম্পাদক আদর দাস (২৫), জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহম্মেদ পাভেল (২৪), বাদল রহমান (৩৫), রিয়াজুল (২২), দুলাল হোসেন (৩৫) ও হাসান (৩০)। তাদেরকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে বিকালে এদের প্রথম পাচঁজনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
এদিকে শহরের পার্শ্ববর্তী এই ইউনিয়নের নির্বাচনি সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে মুন্সীগঞ্জ শহরে। শহরের জেনারেল হাসপাতাল সড়ক ও জুবলি রোডে ও সুপার মার্কেট এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে সহিংসতা বাধে। এছাড়া ঢাকা-সিপাহিপাড়া-টঙ্গীবাড়ি সড়কের পঞ্চসার বণিক্যপাড়ায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাই নাশকতা ঠেকাতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং মুক্তারপুর ও আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর আব্দুল সাত্তারের লোকজন মুক্তারপুরের গোসাইবাগ এলাকায় জনসংযোগে আসলে বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম মোস্তফার লোকজন বাধা দেয়। এ নিয়ে দুদলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। পরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য মৃনাল কান্তি দাসের ভাতিজা আদর দাসসহ কয়েকজন মোটরবাইকে করে সেখানে যায়। সেখানেও বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজনের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা হয়। এ
বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম মোস্তাফা দাবী করেছে, শাওবান ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজে গিয়ে আদরের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে অস্ত্রের মুখে নির্বাচনে প্রচারণা না চালানোর জন্য হুমকি দেয় এবং ৬-৭ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এসময় জনতা তাদের ঘিরে ফেলে গণধোলাই দেয় এবং মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেয়।
এদিকে আদর দাসের পক্ষ থেকে জানিয়েছে, তারা সেখানে গিয়েছিলেন প্রচারণায়। কিন্তু গোলাম মোস্তফার লোকজন তাদের মারধর করে অস্ত্র দিয়ে পুলিশের সোপর্দ করেছে।
এদিকে শহরের জুবলী রোডে কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলি বর্ষণ ও কিছু দোকান এবং আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সভাপতি রেজাইল ইসলাম সংগ্রামের অফিসে হামলা হয়। পরে পুলিশ ও র্যাব গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
সহকারী পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, তাদের সঙ্গে অস্ত্র ছিল, নাকি অস্ত্র দেয়া হয়েছে; তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে পুলিশ আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত রয়েছে। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।
পঞ্চসার ইউপির নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তৃনমূল থেকে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদানকারী গোলাম মোস্তফাকে মনোনয়ন দিয়ে পাঠায়। কিন্তু নানা কারণে কেন্দ্র তাকে বাদ দিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তারকে মনোনয়ন দেয়। ইউনিয়নটিতে ৭ মে ভোটগ্রহন শুরু হবে।
/এআর/







