কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহে ভারতের শান্তি নিকেতনের আদলে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের বিষয়টি এখনও প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবায়নের কোনও পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছয় বছর আগেই শিলাইদহে প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার পর ছয় বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত তা শুধু কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিলাইদহের কুঠিবাড়িকে দ্বিতীয় শান্তিনিকেতন গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার কয়েক দফায় ক্ষমতায় আসার পরও বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।
২০১০ সালের ৮মে ওসমানী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কবির জন্ম জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর তৎকালীণ তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য তিনি শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদকে একটি ডিও লেটার ও চিঠি লিখেন।
আরও পড়ুন: একমুঠো ভাতের জন্য আদালতে মা
ওই চিঠিতে তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ এক মহান যুগের স্রষ্টা। তার নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতি বিশ্ব দরবারে পরিচিতি লাভ করে। এই মহান কবির স্মৃতি ও কর্মের যোগ্য মর্যাদা দানের জন্যই জাতির জনক শিলাইদহে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন কিংবা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে আমাদের জ্ঞান, ভাষা ও সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যুক্ত হবে।’
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক ড. আবুল আহসান চৌধুরী বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে শিলাইদহের কুঠিবাড়ি আজও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেনি। অথচ শিলাইদহে বসেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার সাহিত্য কর্মের উল্লেখযোগ্য অংশ রচনা করেছিলেন। এমনকি গীতাঞ্জলীর মূল সুর তিনি শিলাইদহেই পেয়েছিলেন। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই শিলাইদহে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন জরুরি।’
গবেষক ম. মনিরুজ্জামান বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যের রস অন্বেষণের জন্য বারবার শিলাইদহে এসেছেন। অথচ এই কুঠিবাড়িকে কেন্দ্র করে সরকারের কোনও আগ্রহ নেই। বঙ্গবন্ধুর সময় কুঠিবাড়িকে দ্বিতীয় শান্তি নিকেতন করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেটি এখন আর আলোচনায় আসে না।
আরও পড়ুন: আহসানউল্লাহ'র শিক্ষক ফেরদৌসের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
কুষ্টিয়ার কবি মতিউল আলম অবিলম্বে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, ১৮৯১ সালে জমিদারি পরিচালনার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কুঠিবাড়িতে আসেন। শিলাইদহের নিভৃত পল্লীতে বসে কবি প্রবন্ধ, কবিতা, গল্পসহ অসংখ্য গান রচনা করেছেন।
/এসটি/






