যশোরের শার্শা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে শেষ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলেও ৭টি ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থেকে গেছে। এর ফলে এসব ইউনিয়নে লড়াই হবে কোনওটাতে দ্বিমুখী আবার কোনওটাতে ত্রিমুখী।
১০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ও বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের।যেখানেই নৌকা প্রার্থী সেখানেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।আর এ সুযোগে বিএনপির একক প্রার্থী থাকায় তারা নীরবে প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষের ভোট নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামাল দিতে না পারলে কয়েকটি ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দলের ভরাডুবির আশঙ্কা করছেন ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
উপজেলার পুটখালি ইউনিয়নের বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মফিজুর রহমান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ ইউনিয়নে তার জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকার পরও কী কারণে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। এর ফলে এ ইউনিয়নে এখন আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।
গোগা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছেন বিএনপির একমাত্র প্রার্থী। বাগআঁচড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থীর। শার্শা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একমাত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থীর।
এছাড়া ডিহি, লক্ষণপুর, বাহাদুরপুর, কায়বা, উলাশি ও নিজামপুর ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের লড়াই করতে হবে নিজ দলের শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে। এর ফলে তাদের জয়ী হওয়াটাও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন এলাকার ভোটাররা।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান পদে ৪৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১ জন, সংরক্ষিত সদস্য (মহিলা) পদে ৮৬ জনের মধ্যে ১০ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪শ’ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৫ জন সদস্য প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এ ইউনিয়নে ৪ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ডিহি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম ফজলুল হক বকুল।
এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল খালেক, সহ-সভাপতি হোসেন আলী, বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক আব্দুল মান্নান, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আতিয়ার রহমান।
এ ইউনিয়নে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতা সাহিদুর রহমান।
লক্ষণপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ শান্তি, বিএনপির ইউনিয়ন যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবিব খোকন।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান ও শামছুর রহমান।
এ ইউনিয়নে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন, আওয়ামী লীগের গোলাম মোস্তফা।
বাহাদুরপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, বিএনপির ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সেলিম শাহী।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন, আওয়ামী লীগ নেতা হযরত আলী।
পুটখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল গাফফার সর্দার ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এমপি গ্রুপের আওয়ামী লীগ নেতা হাদিউজ্জামান।
নির্বাচন প্রত্যাহার করেছেন, বিএনপির ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, জামায়াতের মাওলানা আব্দুল কাদের।
গোগা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, বিএনপির স্থানীয় বিএনপি নেতা সরোয়ার হোসেন।
মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আসমা সুলতানা।
কায়বা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান ফিরোজ টিংকু, বিএনপির উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস।
স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বাবলু ও আলতাফ হোসেন।
বাগআঁচড়া ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান ইলিয়াস কবীর বকুল ও বিএনপির উপজেলা যুবদলের নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন।
উলাশি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আয়নাল হক, বিএনপির উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনি।
স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল আলম ও সাইদুজ্জামান।
শার্শা ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, বিএনপির উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের ইফাজউল্লা।
নিজামপুর ইউনিয়নে চেয়ানম্যান পদে ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী সেলিম রেজা বিপুল, বিএনপির ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আব্দুর রউফ মন্টু, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের শরিফুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।
এ ইউনিয়নে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব, আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল আলম, নাসির উদ্দিন ও মহাসীন আলী।
/এআর/টিএন/








