যশোরের ঝিকরগাছার ওয়াপদা জেলে পল্লীতে পুলিশ ও মুখোশধারীরা তাণ্ডব চালিয়ে ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোরের এএসপি ‘ক’ সার্কেল ভাস্কর সাহা জানান, ওয়াপদা পল্লীতে পুলিশ নয়, স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা করে ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়েছে।
সোমবার গভীর রাতে ডাকাত দলের সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশের এএসআই তৌহিদুল ছুরিকাহত হওয়ার পর থানা ও দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে জোট বেঁধে একদল মুখোশধারী ব্যক্তি ওয়াপদা পল্লীর ঘুমন্ত বাসিন্দাদের ওপর দু’ঘণ্টাব্যাপী এই তাণ্ডব চালায় বলে এলাকাবাসী জানান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাইনিজ কুড়াল ও রামদা দিয়ে জেলে পল্লীর টিনের ঘরগুলো কুপিয়ে তছনছ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
বৃদ্ধা ছায়রা খাতুন ও সমত্ত ভান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের কী অপরাধ! পুলিশের সঙ্গে গণ্ডগোল করলো চোর-ডাকাত আর ঘুমন্ত অবস্থায় আমাগের ঘরগুলা কুপায়ে, ভাইঙ্গে দিয়ে সব লুটে নিয়ে গেল পুলিশের লোকরা।’
ষাটোর্ধ হামিদা খাতুন তার হাতটি দেখিয়ে বলেন, ‘এই দেখ বাবা, আমি বুড়া মানুষ। আমারেও পুলিশের সঙ্গে আসা মানুষগুলো রামদা দিয়ে কুপায়ে কী করছে।’
জেলেপল্লীর বাসিন্দারা জানান, পুলিশ তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উঠে যেতে বলেছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে ৩০টিরও বেশি পরিবার এই পল্লীতে বসবাস করে আসছেন। তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। এখান থেকে উঠিয়ে দিলে এই বর্ষায় তারা যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই।
এএসপি ‘ক’ সার্কেল ভাস্কর সাহা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই পল্লী চোর-ডাকাতের শেল্টার হোম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সন্ত্রাসীরা এখানে আশ্রয় নেওয়া ছাড়াও তাদের অস্ত্র-বোমা এখানে মজুদ রাখে। এ কারণে স্থানীয় লোকজন আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল। গতরাতের ঘটনায় সেই ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। এ ঘটনা পুলিশ ঘটিয়েছে বললে আসলে বলার কিছু থাকে না।’
ঝিকরগাছা থানার ওসি মোল্লা খবির আহমেদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তবে ঝিকরগাছা থানা হাজতে আটককৃতদের মধ্যে দেখা যায় অধিকাংশই জেলে। ভোর রাতে তারা প্রতিদিনের মতো জাল নিয়ে অন্যের পুকুরে দিনমজুর খাটতে যাচ্ছিলেন।
উল্লেখ্য, সোমবার গভীর রাতে ১০-১২ জনের মুখোশধারী ডাকাত দল ঝিকরগাছা পৌরসদরের কৃষ্ণনগর ওয়াপদা রোড এলাকায় ডাকাতি করে পালানোর সময় টহল পুলিশ এসে পড়লে তারা ৫টি বোমা নিক্ষেপ পালনোর চেষ্টা করে।
এসময় এএসআই তৌহিদুল এক ডাকাতকে ধরে ফেললে সে হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার গভীর রাতে একদল মুখোশধারী ডাকাত ঝিকরগাছার কৃষ্ণনগর ওয়াপদা রোড এলাকায় লিটন ড্রাইভারের বারান্দার গ্রিল ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। ডাকাতরা এসময় লিটন ড্রাইভার ও তার স্ত্রীকে মারপিট করে ৭ ভরি স্বর্ণের গহনা ও কয়েক হাজার নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। তখন থানার টহল পুলিশ ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ৫টি বোমা নিক্ষেপ করে। দুটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এ সময় এএসআই তৌহিদ এক ডাকাতকে জাপটে ধরলে তার হাতে থাকা ছুটি দিয়ে তাকে আঘাত করে পালিয়ে যায়। এএসআই তৌহিদ বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
/জেবি/এইচকে/








