খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রনিক এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে ১ বছরের সেশনজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ৫ মাস অতিবাহিত হলেও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা থিসিস কার্যক্রম শুরু করতে পারছেন না। ২০১১ সালে অন্যান্য অনুষদের ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা যেখানে মাস্টার্সে টাম পরীক্ষা দিচ্ছেন, সেখানে ইসিই ডিসিপ্লেনের শিক্ষার্থীরা কোর্স শেষ করার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এ অবস্থার মধ্যে রবিবার শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে বিশ্বদ্যিালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
রাজপথে নামা শিক্ষার্থীদের একজন শতরুপা মন্ডল জানান, বিভাগীয় প্রধানের একগুঁয়েমির কারণে থিসিস হচ্ছে না। ডিসিপ্লিনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় অনহযোগিতা ও অপরাগতা প্রকাশ, পরীক্ষা ফলাফল প্রকাশে ব্যর্থতা ও গড়িমসির কারণে তারা এখন সেশনজটে পড়েছেন। ২০১৫ সালের জুনে তাদের বের হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেশনজটের কারণে তারা এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে।
ইসিই ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর শেহরিশ খান বলেন, তিনি এখানে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন গত বছরের ৬ আগস্ট। এরপর থেকে ৬ মাসের মধ্যে প্রথা অনুযায়ী একটি টার্ম শেষ করেছেন। কিন্তু শিক্ষকদের অসহযোগিতার কারণে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে তিনি বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। তার বিভাগের ১৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ৯ জনই তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। এরই অংশ হিসেবে ছাত্ররা রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে। শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে ছাত্রদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা কতটা যৌক্তিক সেটা বোধগম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, আগে ডিসিপ্লিনে অনিয়ম ও সমস্যা ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর অনিয়ম দুরীকরণে পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ফায়েক উজ জামান বলেন, ইসিই ডিসিপ্লিনের প্রধান ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ঈদের আগেই প্রতিবেদন জমা দেবে। ওই প্রতিবেদন নিয়ে ঈদের পর সিন্ডিকেট বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধানকে নিয়ে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েও বিঘিœত হয়েছে। এখন ডিসিপ্লিনের প্রধান ও শিক্ষকদেরই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
রোববার বেলা ১টার দিকে ইসিই ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে মোঃ শাফিউল ওমাম, সজিব হোসাইন, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, আবু জোবায়ের অভি, আমিনুল কবির, এখলাসুর রহমান, প্রিয়াংকা ঘোষ, জোবায়দা আজাদ শিখা, শতরূপা মন্ডল, তানজিনা শারমিন দৃষ্টি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। শিক্ষার্থীরা সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি নিয়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে শক্ত অবস্থান নেবে।
/এইচকে/








