যশোর শহরের পুরাতন কসবা বিবি রোডের (কদমতলা) আব্দুল আজিজের বাড়িতে তালা ঝুলছে। এলাকাবাসী জানান, দুই তিন মাস হলো ওই বাড়ির লোকজনের কোনও খোঁজ খবর নেই। স্বজনরাও জানেন না এই বাড়ির লোকজন এখন কোথায়।
মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আব্দুল আজিজের দু’ছেলে, দু’মেয়ে ও দু’মেয়ের জামাইসহ মোট ছয়জন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিজবুত তাহরীরের সদস্য। তাদেরসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি পোস্টারও ছেপেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
তবে বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদক সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা এই পরিবারের ছয়জনের জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
পুলিশের ছাপানো পোস্টারে কদমতলা এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে তানজিব ওরফে আশরাফুল,তার ভাই তানজির আহমেদ,বোন মাছুমা আক্তার ও মাকসুদা খাতুন,মাকসুদার স্বামী শাকির আহম্মেদ ও মাসুমার স্বামী নাজমুল হাসানের নাম ও ছবি রয়েছে। ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও আব্দুল আজিজের প্রতিবেশী রোজ হাসান বলেন, কয়েক মাস আগে এই পরিবারের এক ছেলে পুলিশের হাতে আটক হয়। এরপর তার বোন ও ভাই আটক হয়। কিছুদিনের মধ্যে তারা জামিনে বের হয়ে যান। কিন্তু তারা জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত বিষয়টি জানা ছিল না। তবে মাঝে মধ্যে তাদের বাড়ির ছাদে লোকজনকে বইপত্রসহ দেখা যেতো।
তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিবারের দুই মেয়ে চোখ বাদে সবকিছুই ঢেকে রাখতো। কখনও তাদের মুখ দেখিনি।’
প্রতিবেশী ইমতিউজ্জামান বলেন, ‘তানজিব আমার সঙ্গে যশোর বিমানবন্দর মাধ্যমিক স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়। একইসঙ্গে খেলাধূলাও করতাম। কিন্তু কখনও ভাবতে পারিনি তারা সবাই কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।’
জেলা যুবলীগের দফতর সম্পাদক ও প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘জিহাদি বই ও কম্পিউটারসহ এই পরিবারের ছেলে-মেয়েরা আটক হলেও কী কারণে তারা মুক্তি পেয়ে যায় তা বোধগম্য নয়।’
আব্দুল আজিজের শ্যালক কাজী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ববিতা বেগম বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে মাজেদা (তানজিবের মা) আপার মস্তিষ্ক বিকৃত ছিল। কয়েক বছর ধরে ওই পরিবারের সঙ্গে আমাদের কথা হয় না।’
তানজিবের মামাতো ভাই কাজী রাজিব হাসান জানান, তাদের সঙ্গে ফুফু বা ফুপাতো ভাইবোনের তেমন কোনও সম্পর্ক ছিল না। তিনি বলেন, ‘ওরা থাকে ওদের মতো, আমরা আমাদের মতো।’
স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর নাসিমা আকতার জলি বলেন, ‘মাজেদা আপার মাথায় সমস্যা ছিল। তিনি প্রায় রাস্তায় একা একা বকবক করতেন। এই পরিবারের লোকজনকে ভালো মানুষ বলেই জানতাম। তারা যে বিপথগামী হয়ে গেছে তা জানা ছিল না।’
যশোর পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর তানজিবকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সরকারি পিপি তার জামিনের বিরোধিতা না করায় আদালত গত মে মাসে তাকে জামিন দেন। একইভাবে তানজিবের ভাই তানজির আহমেদ ও বোন মাছুমা আক্তারকেও একটি ল্যাপটপসহ আটক করে পুলিশ। এই দুটি মামলাতেও সংশ্লিষ্ট সরকারি পিপিরা জামিনের বিরোধিতা না করায় আদালত তাদের জামিন দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত করে আমরা দ্বিতীয় দফা একটি পোস্টার করেছি। জঙ্গিরা যদি আত্মসমর্পণ করে, তবে পুলিশের কাছ থেকে আইনগত সহায়তা পাবে। তা না হলে জঙ্গিদের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স।’
আরও পড়ুন-
‘যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তে নতুন আইন করবে সরকার’
ভিসা না পাওয়ায় হজে যেতে পারেননি ৭৫৪ জন
/এমডিপি/এফএস/








