বৈরী আরহাওয়ার কারণে টানা তিন বছর খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে ঈদের জামাত করা সম্ভব হয়নি। গত ঈদ-উল ফিতরেও এখানে জামাত হয়নি। তবে এবার ঈদ-উল আজহায় এখানে জামাতের জোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে, বৃষ্টির প্রকোপ থেকে সুরক্ষায় মাঠ সামিয়ানা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সোমবার দুপুরে দেড় ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে মাঠে তেমন একটা পানি জমতে পারেনি। তারপরও জমে থাকা পানি সরাতে রাতে ৪০ জন কর্মী নিয়োজিত করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। মাঠ জামাতের উপযুক্ত করতে দেওয়া হয়েছে বালির আস্তরণ।
ঈদ জামাতের জন্য খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠ প্রস্তুত কমিটির প্রধান কেসিসির সহকারী প্রকৌশলী মো. হোসেন বলেন, ‘সোমবার দুপুরের বৃষ্টির পর মাঠ ভিজেছে। নিচুস্থানে হালকা পানিও জমেছে। পুরো মাঠ জুড়ে এবার আগেভাগেই সামিয়ানা টানানোর কারণে বৃষ্টির চাপ থেকে কিছুটা হলেও মাঠ রক্ষা পেয়েছে। রাতের মধ্যেই জমে থাকা পানি সরানোর জন্য ৪০ জন কর্মী নিয়োজিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় স্থানে বালুও দেওয়া হবে। রাতে বা মঙ্গলবার সকালে আর কোনও বৃষ্টি না হলে এবার এই মাঠেই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।’ তিনি বলেন, ‘কেসিসির উদ্যোগে সার্কিট হাউজ মাঠসহ চারটি ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুত ও ১০৫টি স্থানে ঈদের গেট স্থাপন করা হয়ে থাকে। এ আয়োজনে কেসিসির ১২ লাখ টাকা বাজেট থাকে। এবার আগেভাগে সার্কিট হাউজ মাঠে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।’
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ জানান, সোমবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত খুলনায় ভারী বৃষ্টি হয়। এ সময়ে ৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সাগরের মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টি। রাতে বৃষ্টি হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। তবে, মঙ্গলবার দিনের যে কোনও সময়ে ফের বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খুলনায় প্রধান ও বৃহত্তম জামাত ঐতিহ্যবাহী সার্কিট হাউজ ময়দানে সকাল আটটায় অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল নয়টায় দ্বিতীয় ও শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে সকাল আটটা, সকাল নয়টা এবং সকাল ১০টায় টাউন জামে মসজিদে পর পর তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
/এবি/







