যশোর সরকারি এমএম কলেজের শিক্ষক ছোলজার রহমানকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কর্মসূচি নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করলেন অধ্যক্ষ প্রফেসর মিজানুর রহমান।
রবিবার দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কর্মবিরতির ঘোষণা এক্সট্রিম সিদ্ধান্ত। এটি আমাদের মান-সম্মানের বিষয়। সেকারণে এটি আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত দেবেন।’
তিনি বলেন, দোষীদের শনাক্তে আমরা ইতোমধ্যে কলেজের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের অবহিত করেছি। তাদের বলেছি, তোমরা বিফল হলে আমরাই দায়িত্ব নেবো। পরে মামলা করার বিষয়টিও দেখবো।
তিনি বলেন, দোষীরা চিহ্নিত ও আটক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।
এর আগে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক পরিষদের এমএম কলেজ শাখার যুগ্ম সম্পাদক আরএমএ জাকারিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দোষীদের আটক করে আইনের আওতায় আনা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতি চলবে। তবে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান পরীক্ষা এবং অনার্স ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।
রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর এমএম কলেজ ক্যাম্পাসে বিসিএস শিক্ষক সমিতি যশোর ইউনিটের সভাপতি, কলেজের ভুগোল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ছোলজার রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন শিক্ষকরা।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তৃতা করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মিজানুর রহমান, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শফিউল সর্দার, শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারি এআইএম শরিফুল হোসেন প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে কলেজের প্রবেশ মুখ জিমনেশিয়ামের পাশে পাঁচ যুবক মুখ বাঁধা অবস্থায় একটি বালতিতে গোবর গুলিয়ে অধ্যাপক ছোলজার রহমানের শরীরে ঢেলে দেয়। তার কাছে কলেজের কাগজপত্রসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিল। এতে কাগজপত্রসহ তার সেলফোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রফেসর ছোলজার রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পরীক্ষার হলে আমি কাউকেই নকল করতে দিই না। তাদের মোবাইলফোন ব্যবহার করতেও বাধা দেই। সেকারণে ২৩ অক্টোবরের পরীক্ষার পর কতিপয় শিক্ষার্থী আমার সঙ্গে রাগারাগিও করে।’
তিনি বলেন, আমার ধারণা ওইসব শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
আন্দোলনের কর্মসূচি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কলেজ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান দোষীদের আটক না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।’
শিক্ষক পরিষদের নেতা আরএমএ জাকারিয়া কী বলেছেন- তা তিনি জানেন না বলে জানান। তবে, কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়নি বলে জানান অধ্যাপক ছোলজার।
আরও পড়ুন:
শিক্ষকের গায়ে গোবর: এমএম কলেজে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি
/বিটি/








