যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ক্ষমতার থেকে বেশি ওজন নিয়ে ব্রিজের উপর দিয়ে চলছে আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে ব্রিজ ভেঙে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ইতিমধ্যে ওই এলাকায় নতুন ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, দেশের অন্যতম স্থলবন্দর বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দরকে যশোরসহ সারাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষের ওপর নির্মিত এ ব্রিজটি। এ ব্রিজটির উপর দিয়ে দিনরাত হাজার হাজার টন মালামাল ও যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন ধরণের যানবাহন চলাচল করছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে উন্নয়নের পথে সংযোগকারী অতি গুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজটি দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঝিকরগাছার কৃষ্ণনগর এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই ব্রিজের মাঝখানের অংশ মুক্তিযুদ্ধের শেষ সময়কালে পাকসেনারা বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেয়। স্বাধীনতার পরে এটির মাঝের অংশ নির্মাণ করা হয়। বছর দশেক আগে ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেগুলো একটু আধটু সংস্কার করা হলেও এটি এখন আমাদের কাছে আতঙ্কের বিষয়।’
যশোর-বেনাপোল সড়কে চলাচলকারী বাসচালক ইনতাজ আলী বলেন, ‘ব্রিজটা মরণফাঁদ বলে মনে হয়। দু’টি বাস ওভারটেক করলে মাঝখানে খুব কম জায়গা থাকে। উপরে উঠলে ব্রিজটি কেঁপে ওঠে. মনে হয় এই বুঝি ভেঙে পড়লো। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রত্যহ চলাচল করতে হচ্ছে।’
ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ইমপোর্ট এক্সপোর্ট সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, ‘প্রতিদিনই এই ব্রিজের উপর দিয়ে ট্রাক-বাস আর হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। ঝিকরগাছা ব্রিজটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করা না হলে ভেঙে হয়ে যেতে পারে দেশের অন্যতম বৃহত্তম বেনাপোল স্থলবন্দরটি। সে কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, অবিলম্বে ব্রিজটির পুনর্নিমাণ করা হোক।’
সড়ক ও জনপথ যশোরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আলী নূরাইন বলেন, ‘ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় ক্রস বর্ডার প্রকল্পের অধীন জাইকার অর্থায়নে সেখানে চার লেন সড়কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাস নাগাদ কাজ শুরু হতে পারে।’
উল্লেখ্য, প্রায় ১৩০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৮ মিটার প্রস্থের এ ব্রিজটি ব্রিটিশ শাসনামলে কলকাতার সঙ্গে যশোরের যোগাযোগ স্থাপনে তৈরি করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্রিজের মধ্যভাগ ভেঙে দেয় পাকিস্তান সেনারা। পরে ১৯৭২ সালের দিকে ব্রিজের মধ্যভাগ নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা হয়।
/এমও/







