কালজয়ী অনেক কবিতা রচনাসহ সাংবাদিক ও শিক্ষক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের ১৮৩ তম জন্মবার্ষিকী শনিবার। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ১৮৩৭ সালের এদিনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। বাংলা সাহিত্যের অমর কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন... অথবা যে জন দিবসে মনের হরষে/জ্বালায় মোমের বাতি’ এ কবিতা দুটি শৈশবে পড়েননি এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। জন্মবার্ষিকীতে কবি কৃষ্ণচন্দ্র ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে কবির কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনা সভা ও শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
কবির জীবন ও সাহিত্য কর্ম নিয়ে এমফিল করা স্থানীয় আলহাজ্ব সারোয়ার খান ডিগ্রি কলেজের ভাইস-প্রিন্সিপাল মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘যে বছর মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদ বধ কাব্য প্রকাশিত হয়, সেই ১৮৬১ সালেই কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের কাব্য সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয়। তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে বানানো ইনস্টিটিউটে কবির কিছুই নেই।’ কবির পিতার নাম মানিক্যচন্দ্র মজুমদার। মাতা ব্রক্ষ্মময়ী ও স্ত্রী অমৃতময়ী গুপ্তা।
এমএ মজিদ কলেজের অধ্যক্ষ মির্জা নুরুজ্জামান বলেন, ‘আজ কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের স্মৃতিচিহ্ন নিশ্চিহ্ন প্রায়। কবির পৈত্রিক ভিটেমাটির কোনও নিশানা নেই। বিভিন্ন জন তা দখল করে নিয়েছে। এছাড়া কবির শৈশব স্মৃতির শেষ স্মৃতিচিহ্নগুলোও বর্তমানে হুমকির সম্মুখীন। কবির জন্মস্থান সেনহাটিতে তার স্মৃতি রক্ষা এবং জীবন ও কর্মের ওপর গবেষণার জন্য ১৯১৪ সালে স্থাপিত কবি কৃষ্ণচন্দ্র ইনস্টিটিউটও স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছে। ইনস্টিটিউট ভবনটি এখন ক্লাবে পরিণত হয়েছে। এখানে একটি লাইব্রেরি ছিল। সেখানে ছিল অনেক দুর্লভ ও মূল্যবান গ্রন্থ। বর্তমানে এখানে কিছুই নেই।’
কবি কৃষ্ণচন্দ্র ইনস্টিটিউটের সভাপতি মোহাম্মদ আখতার হোসেন বাবলু জানান, ব্রিটিশ রাজত্বের গোড়ার দিকে মানবপ্রেমী কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন। তার বংশীয় উপাধি ছিল ‘দাস।’ কিন্তু কবির পিতামহ মুন্সি নরোত্তম দাস কবীন্দ্র শেখরকে বাংলার নবাব ‘মজুমদার’ উপাধি প্রদান করে। পরে সেই পদবী বংশানুক্রমে চলে এসেছে। তাই কৃষ্ণচন্দ্রের উপাধীও ‘মজুমদার।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখানে চলে আড্ডাবাজি আর জুয়ার আসর বসে। কবির জন্মস্থান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে বহু ভক্ত অনুরাগী সেনহাটিতে আসেন। কিন্তু তারা কবির বসতভিটা দেখতে না পেরে ফিরে যান।
সূত্রে জানা যায়, ১৯২৬ সালে (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ) কুমুদ বন্ধু স্মৃতি মন্দিরের সামনে ভৈরব নদীর কাছে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়। ওই স্মৃতিস্তম্ভে লেখা ছিল ‘ওহে মৃত্যু তুমি মোরে কি দেখাও ভয় ও ভয়ে কম্পিত নয় আমার হৃদয়।’ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ২০০৮ সালে কবির প্রিয় কামিনী গাছটির স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখতে সেখানে আরেকটি কামিনী গাছ লাগানো হয়।
কবি কৃষ্ণচন্দ্র ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন খুলনার জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান। বিশেষ অতিথি থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শম্পা কুন্ডু, আলহাজ্ব সারোয়ার খান ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ এএসএম সাইফুদ্দোহা ও এমএ মজিদ কলেজের অধ্যক্ষ মির্জা নুরুজ্জামান। আলোচনায় অংশ নেবেন কবি কৃষ্ণচন্দ্র গবেষক ও আলহাজ সারোয়ার খান ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. আলতাফ হোসেন। সভাপতিত্ব করবেন কবি কৃষ্ণচন্দ্র ইনস্টিটিউটের সভাপতি মোহাম্মদ আখতার হোসেন বাবলু।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: এত উন্নয়ন কি স্বপ্নেও দেখেছেন: প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর








