বিনা চিকিৎসা ও কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বদিউর রহমান (৫০) নামে এক বিএনপি নেতার (হাজতি নম্বর ৬৪৭০) মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলের নেতারা। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা এ দাবি করেন। তারা বদিউরের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিও জানান। তবে, কারাগার কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নিহত বদিউর বাঘারপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা বলেন, বদিউরসহ বিএনপির তিন নেতাকর্মী যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা গেছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। কারাগারে মৃত অন্য দুই নেতা হলেন, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম শান্তি এবং যশোরের যুবদল নেতা উজ্জ্বল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন প্রমুখ।
বদিউরের চাচা মো. হাসান আলী জানান, ঈদের ৬-৭ দিন আগে বাঘারপাড়ায় বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে উপজেলা সভাপতি টিএস আইয়ুবের অনুসারীদের সঙ্গে দলের বহিষ্কৃত নেতা আবু তাহের গ্রুপের বিরোধ বাধে। আর ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনায় বাঘারপাড়া পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। বদিউর রহমান ওই মামলার আসামি এবং তিনি আবু তাহেরের অনুসারী ছিলেন।
তিনি জানান, পুলিশ ওই মামলায় বদিউরকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায় ঈদের ৪-৫ দিন আগে। জেলহাজতে থাকা অবস্থায় সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে বদিউরের মৃত্যু হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু তালেব জানান, জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বদিউরের মৃত্যু হয়। বাঘারপাড়া থানার একটি মারামারি মামলায় গত ২৬ আগস্ট বদিউর রহমান জেলহাজতে আসেন। ১১ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে বদিউরের বুকে ব্যাথা অনুভূত হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অবশ্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার কাজল মল্লিক বলেন, ‘রাত ১১টা ৫০ মিনিটে হাজতি বদিউরকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।’
তিনি বলেন, ‘কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বলা যাবে না।’
আরও পড়ুন:
একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী







