যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম আফজাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মাহাবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।
তবে, ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনও চিঠি পাননি। সে কারণে বিষয়টি জানা নেই।’
এদিকে, আফজাল হোসেনের চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্তের সংবাদে রবিবার রাতে আনন্দ মিছিল এবং মিষ্টি বিতরণ করে এলাকাবাসী।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মোটরসাইকেলে ইছালী ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছিলেন। পথে যশোর-মাগুরা সড়কের পাঁচবাড়িয়ায় সিনজেনটা ওষুধ কোম্পানির অফিসের সামনে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পথচারীরা উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি নিহতের বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান বাদী হয়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে সিআইডি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক (ওসি) আমিনুল ইসলাম।
ইছালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম আফজাল হোসেন ছাড়াও বাকি আসামিরা হলেন যশোর সদরের বাহাদুরপুর গ্রামের রকিবুল ইসলাম রকি, ইমলাক হোসেন, সাজ্জাদুল হোসেন, তালবাড়িয়া গ্রামের হজরত আলী আঁখি, রফিক ওরফে রফিউদ্দিন সরদার ওরফে টিটো রফিক ওরফে কাহার রফিক, আলতাফ হোসেন, কিসমত রাজাপুরের এসএমএ জব্বার, ইছালী গ্রামের আজিজুর রহমান ডেভিড, আমিনুর, জালাল, তেজরোল গ্রামের নবকুমার ঘোষ ওরফে লব ঘোষ, এনায়েতপুর গ্রামের খাইরুল হোসেন, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম ফিঙ্গে, জগমোহনপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ, শহরের বারান্দী মোল্যাপাড়ার আরিফুর রহমান, উপশহরের ফয়সাল ওরফে কোকিল, বাঘারপাড়ার কৃষ্ণনগর গ্রামের আসকার আলী জোয়ার্দার ও সাদ্দাম হোসেন।
পরবর্তীতে চার্জশিট গৃহীত হলে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
আরও পড়ুন:








