মাছ চাষে অবদান রাখায় নারী উদ্যোক্তা হিসেবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার (রৌপ্য) পেয়েছেন ঝিনাইদহের লাভলি ইয়াসমিন। তিনি বিশ্বাস করেন, পরিশ্রম করলে একদিন ভাগ্যের পরিবর্তন আসবেই। গত ১ মার্চ ঢাকা ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি।
বাংলা ট্রিবিউনকে লাভলি ইয়াসমিন বলেন, ‘সঠিক পথে কাজ করলে পুরস্কার এক সময় সবার ঘরেই আসবে। সরকার আমাকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারে নির্বাচিত করেছে। এই জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এই পুরস্কার পাওয়ায় আমার কাজের গতি আরও বেড়েছে।’
লাভলি ইয়াসমিন আরও বলেন, ‘আমার এই অর্জন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় সম্ভব হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মো. মনিরুজ্জামান আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিয়ে আমাকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। আজ আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম স্বার্থক ও সফল হয়েছে। এই পুরস্কার আমি ঝিনাইদহের সব কৃষকের মধ্যে উৎসর্গ করলাম।’
জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালীচরণপুর ইউনিয়নের উত্তর কাষ্টসাগরা গ্রামের আব্দুল মান্নানের স্ত্রী লাভলি ২০০১ সালে গ্রামের একটি পুকুর লিজ নিয়ে রুই, কাতলা, মৃগেল ও সিলভারকার্প মাছের চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ৮ একর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছেন। লাভলি তার খামারে ৯০০ কেজি রেণু ও ২৫ হাজার কেজি পোনা উৎপাদন করে ২০১৭ সালে ৬১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা আয় করেন। পাশাপাশি তার মাছের খামারে ২০০ জন বেকার নারী- পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। তার সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই মাছ চাষে আগ্রহ হয়ে উঠেছেন। মাছ চাষের পাশাপাশি লাভলি গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি ও শাক-সবজিরও চাষ করছেন।
মাছ চাষের উপযোগী রেণু পোনা উৎপাদন করে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন লাভলি। বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষে সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পদক পেয়েছেন।
কালীচরণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণপদ দত্ত বলেন, ‘লাভলী ইয়াসমিন আমার ইউনিয়নের গর্ব। আমরা সবাই তাকে চিনি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কৃষি মানে শুধু মাছ না। লাভলী ইয়াসমিন মাছ চাষের পাশাপাশি বিভিন্ন ফসলও উৎপাদন করেন। ২০১২ সালে কৃষি বিভাগ থেকে তাকে মালয়েশিয়াও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলফাজ উদ্দীন শেখ বলেন, ‘লাভলী ইয়াসমিন একজন ভাল মাছ চাষি। তিনি উপজেলা মৎস্য অফিসের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখেন। কোনও সমস্যা হলে জানান। আমরা তাকে কারিগরি সহায়তাসহ মাছ চাষের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভিজিটররা আসলে আমরা তাদের লাভলীর মাছের খামার দেখাতে নিয়ে যাই। মাছ চাষের জন্য তিনি আমাদের কাছে ঋণ চেয়েছেন। সেটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’







