যে প্রমত্তা নবগঙ্গা একসময় মুখরিত হতো স্টিমার আর লঞ্চের হুইসেলে আজ তা প্রায় মরতে বসেছে। রাতভর জেলেদের মাছধরার নৌকায় ভরে থাকা নদী বুকে বর্তমানে বালুচর। তবে সম্প্রতি খননের মাধ্যমে নবগঙ্গার নাব্যতা ফিরিয়ে আনার সংবাদে মাগুরাবাসী নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন এ নদীকে নিয়ে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, নদী খননের জন্য ২০১২ সালে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হলেও দীর্ঘদিন পর ২০১৭ সালে ৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ এসেছিল। ১১ কিলোমিটার এলাকা খননের জন্য এরইমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। খনন কাজ সম্পন্ন হলে ৪ হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধা পাবে যার ফলে ২০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদিত হবে। একইসঙ্গে মাগুরার নয়টি বিলও রক্ষা পাবে জলাবদ্ধতা থেকে।
স্থানীয় মৎস্য বিভাগ জানায়, নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি পেলে মাছের উৎপাদন একহাজার মেট্রিক টন বাড়বে। এছাড়াও মাছের বৈচিত্র্যও রক্ষা করা যাবে।
মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, ‘খনন কাজের জন্য আগেই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এটি সম্পন্ন হলে মাগুরা শুধু অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে তা নয়, এটি একটি অবকাশ কেন্দ্র হিসেবেও মাগুরাবাসী ব্যবহার করতে পারবে।’
নিজনান্দুয়লী গ্রামের কৃষক আকিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ২ বিঘা জমিতে সেচ বাবদ বছরে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। নবগঙ্গা নদী থেকে যদি সেচ দেওয়া যায় তাহলে সেচ খরচ সাশ্রয় হবে।
মাগুরার সামাজিক সংগঠন জাগো মাগুরার সাধারণ সম্পাদক বারিক আনজাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা নবগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন করছি। অবশেষে আমাদের আন্দোলন সফল হতে চলেছে। নবগঙ্গা নাব্যতা ফিরে পেলে সেচ ও মাছের জন্য উপকারী হবে। পাশাপাশি এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও প্রস্তুত হবে বলে আশা রাখি।’
মাগুরার প্রবীণ শিক্ষাবিদ ভাষা সৈনিক খান জিয়াউল হক বলেন, ‘ছেলেবেলায় দেখতাম বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্টিমার আসত এ নদীর ঘাটে। আমরাও নড়াইল, খুলনা গিয়েছি এসব স্টিমারে। রাতের নদীতে জোনাকির মত দেখা যেত মাছ ধরার নৌকা। প্রচুর মাছ আসত বাজারে। আশেপাশের জমিগুলোর সেচের প্রধান অবলম্বন ছিল নবগঙ্গা। কালের বিবর্তনে এখন নবগঙ্গা মৃতপ্রায়, তবে খনন কাজ শুরু করা হলে নদীটি তার পূর্বরূপ ফিরে পাবে বলে আশা রাখি।’








