বাংলা নতুন বছর, ১৪২৫ বরণে মঙ্গল শোভাযাত্রার পীঠস্থান যশোরে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তে রঙ করার কাজ করছেন চারুপীঠ আট রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও চারুতীর্থের সংস্কৃতি কর্মীরা। শোভাযাত্রার জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশাল আকৃতির দোয়েল, কচ্ছপ, সাপ, কুমির, বাঘ,পুতুলসহ নানা রঙের মুখোশ। এদিকে সমগ্র আয়োজনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান,নববর্ষ উদযাপন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে যশোরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করবেন।
চারুপীঠের অধ্যক্ষ শিল্পী মাহবুব জামাল শামীম বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন সার্বজনীন। আমাদের স্বপ্ন ছিল সারাদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে, সে আশা পূরণ হয়েছে। উৎসবটিকে আর ব্যক্তিগত কিংবা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের না ভেবে সব মানুষের জন্য করা হয়েছে।’
বিবর্তন যশোরের সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু জানান, বিবর্তন ও সুরধনী যৌথভাবে অনুষ্ঠান করবে পহেলা বৈশাখে। তাদের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। এবার শিশুদের পরিবেশনায় একটি এবং বড়দের একটি করে মোট দুটি নাটক মঞ্চস্থ হবে।
উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর বরাবরের মতো আয়োজন থাকবে যশোর পৌরপার্কে। ছোট-বড়দের ভিন্ন ভিন্ন পর্বে থাকবে বিশেষ আয়োজন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব বলেন, ‘আমাদের এবারের প্রতিপাদ্য থাকবে যশোর রোডের বৃক্ষ নিধনের প্রতিবাদ। অনুষ্ঠানে ৫ কবির গান,নৃত্য,কবিতা আবৃতি,যাত্রাপালা সবকিছুই থাকবে।’
চারুপীঠের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রাকে যতটুকু বর্ণিল করা সম্ভব ততটুকুই করা হবে। বর্ষবরণকে উৎসবে পরিণত করতে আমরা প্রস্তুত।’
উৎসবের প্রস্তুতিতে বিবর্তন যশোর, উদীচী, পুনশ্চ, তীর্যক ও চাঁদেরহাটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনে চলছে গান, নাচ, নাটক ও গীতিনাট্যের মহড়া।
প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নান্দনিক দাওয়াতপত্রে অনেক এগিয়ে আছে। এবারও প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নান্দনিক এসব দাওয়াতপত্রের ওপর পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যশোরেরর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরিফুর রহমান বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় কালেক্টরেট চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।








