সৌদি আরবের জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নড়াইলের তিন জনের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। সন্তানদের হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফেরত আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (৪ জুলাই) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলো- নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের ইসরাফিল শেখ (৩৫), লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া গ্রামের সৈয়দ হোসেন আলী (৩৩) ও নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম মোল্যা (৩০)। ওই দুর্ঘটনায় মোট সাত বাংলাদেশি নিহত হন।
বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) রামচন্দ্রপুর গ্রামের ইসরাফিল শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার স্ত্রী সুলতানা বেগমসহ পরিবার-পরিজনের সদস্যরা আহাজারি করছেন।
নিহতের ছেলে সাজ্জাদ জানায়, তার বাবা প্রায় ১৪ মাস আগে সৌদি আরবে যান। তবে ভালো কোনও কাজ না পেয়ে কষ্টে ছিলেন তিনি। এজন্য তাদের ঘাড়ে ছিল দেনার বোঝা।
ইসরাফিলের ভাই মহসিন শেখ বলেন, ভাইয়ের লাশ দ্রুত দেশে পৌঁছানোর পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি করছি।
আড়পাড়া গ্রামের নিহত মনিরুল মোল্যার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, বৃদ্ধা মা আমেনা বেগম ছেলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তিনি জানান, সাত ভাই-বোনের মধ্যে মনিরুল সবার ছোট। নড়াইল শাহাবাদ মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করে এক বছর আগে সৌদি আরব যায় মনিরুল। এ বছরের শেষে বিদেশ থেকে বাড়ি ফিরে এসে বিয়ে করার কথা ছিল। সে লক্ষ্যে আমরা বাড়িঘর মেরামত করে মেয়ে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। মনিরুলের বোন জেসমিন ও নাইচ ভাইয়ের শোকে বিলাপ করতে করতে বলেন, টাকা দিয়ে কি হবে? আমার ভাই বিদেশে গিয়েছিল অনেক টাকা আয় করতে, কিন্তু সে এখন লাশ হয়ে ফিরছে।
এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত লাহুড়িয়া গ্রামের সৈয়দ আশরাফ আলীর ছেলে সৈয়দ হোসেন আলীর বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। নিহতের স্ত্রী রাকিয়া বেগম তার দুই শিশু ছেলে ফাহাদ ও হামজাকে জড়িয়ে ধরে বিলাপ করছেন।
নিহত সৈয়দ হোসেন আলীর বড় ভাই সৈয়দ নাসির আলী জানান, এর আগে কুয়েতে ৫ বছর ছিল হোসেন আলী। দেশে ফিরে গত ৯ মাস পূর্বে সৌদি আরব যায় তার ভাই হোসেন। হোসেনের মৃত্যুর খবরে বৃদ্ধ বাবা-মা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে আছেন।
এই সংক্রান্ত আরও খবর: শাহ আলমকে হারিয়ে পরিবার দিশেহারা







