জমি অধিগ্রহণেই আটকে আছে খুলনা অঞ্চলের পর্যটন শিল্প

খুলনা প্রতিনিধি
২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:৫৯আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:১০

সুন্দরবন সম্ভাবনা সত্ত্বেও খুলনা অঞ্চলে পর্যটন শিল্প বিকশিত হচ্ছে না। জমি অধিগ্রহণের মধ্যে আটকে আছে পর্যটন করপোরেশনের নিজস্ব ভবন তৈরির কাজ। এছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থাও উন্নত না। পাশাপাশি গৃহিত প্রকল্প চলমান থাকায় আলোর মুখ দেখছে না পর্যটন শিল্প।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ৮০ শতাংশই খুলনা হয়ে সুন্দরবনে যায়। তবে খুলনা মহানগরীতে  পর্যটকদের জন্য সরকারিভাবে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নেই। নেই দক্ষ জনবল ও প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড। ফলে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না ২০১৪ সালের নীতিমালা। পর্যাপ্ত সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তাদের ছুটতে হয় বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের কাছে। সেখানেও তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের নীতিমালা অনুযায়ী সুন্দরবনের করমজলসহ কিছু পর্যটন কেন্দ্র ছাড়া বনের ভেতরে ঢুকতে বা থাকতে বন বিভাগের অনুমতি লাগে। নীতিমালা অনুযায়ী পর্যটকরা বনে মাইক নিতে পারবে না, জলে-ডাঙায় আবর্জনা ফেলবে না। লঞ্চে প্রশিক্ষিত গাইড থাকবে। দিনের লঞ্চে ১৫০ আর রাতের লঞ্চে ৭৫ জন পর্যন্ত পর্যটক থাকতে পারবে। সর্বোচ্চ চার রাত পাঁচ দিন বনে থাকা যাবে। রাত ১০টার পর জেনারেটর চলবে না। অভয়ারণ্যে বন্যপ্রাণীকে স্বস্তিতে থাকতে দিতে হবে। ট্যুর অপারেটররাই এসব বিধি নিষেধগুলো পর্যটকদের জানাবেন। পাশাপাশি সুন্দরবনের বিভিন্ন জায়গায় জলযান অবস্থানের সংখ্যা বেঁধে দিয়ে এসব তথ্য প্রচারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইংরেজি ও বাংলায় বিধি নিষেধের তালিকা বন বিভাগের টাঙানোর কথা।

অভিযোগ রয়েছে, খুলনায় বেসরকারি পর্যায়েও ভালো মানের কোনও ট্যুর অপারেটর নেই। নেই দক্ষ জনবল। নেই প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড। দু-একজন অদক্ষ স্বল্পশিক্ষিত লোক দিয়ে চালানো হয় পর্যটকদের সেবা কার্যক্রম। এসব অদক্ষ কর্মী ও স্বল্পশিক্ষিত ট্যুর গাইড বিদেশি পর্যটকদের সঠিক সেবা দিতে পারেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবার এসব ট্যুর অপারেটররা যেসব নৌযান দিয়ে পর্যটকদের সেবা দিয়ে থাকেন, সেগুলোর মানও ভালো নয়। এছাড়া নগরীতে ভালো মানের হোটেল না থাকায় বিদেশি পর্যটকরা সুন্দরবন বিমুখ হচ্ছেন।

ট্যুর অপারেটর কচি জমাদ্দার বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়া, লোকবল সংকট, প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকটসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলো নানা সমস্যায় জর্জরিত।  লঞ্চে দেওয়া নিরাপত্তা প্রহরীরা অধিকাংশ অদক্ষ, অযোগ্য ও বয়োবৃদ্ধ। এছাড়া কেন্দ্রগুলোতে চলাচলের সড়ক পরিষ্কার করার মতো কেউ নেই। ফলে সুন্দরবনে আসতে পর্যটকরা দিন দিন আগ্রহ হারাচ্ছে।’

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন বলেন, খুলনা বিভাগীয় ও জেলা পর্যটন অফিস নেই। ২০১৫ সালে রাশেদ খান মেনন খুলনা সফরকালে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া খুলনায় ভালো মানের কোনও পাঁচ তারকা হোটেল নেই।

সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পর্যটনের প্রধান সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে খুলনা অঞ্চলে বিমানবন্দর দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এছাড়া খুলনা, মোংলা, শরণখোলায় নেই কোনও ভালো মানের হোটেল। কিছু কিছু কেন্দ্রে কাঠামো ভেঙে পড়ছে। যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নেই পর্যাপ্ত ট্যুর গাইড। বন বিভাগের জনবল সংকট রয়েছে। এ কারণে বনবিভাগ নিয়মিত সব লঞ্চে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে হিমশিম খায়।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর খুলনা সূত্রে জানা যায়, এখানে রবিঠাকুরের শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণডিহি, পিঠাভোগ, পিসি রায়ের বাড়িসহ বেশ কিছু কেন্দ্র রয়েছে। যা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে সমস্যা হয়। যাতায়াত ব্যবস্থায় সমস্যা থাকার কারণে পর্যটকরা এসব স্থানের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হেলাল হোসেন বলেন, খুলনায় পর্যটন করপোরেশনের অফিস ভবন নির্মাণের কাজ চলমান। জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন কারণে কাজটা ধীরগতিতে চলছে। তবে, কাজটা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

 

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ইকরার মৃত্যু: জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর মা
ইকরার মৃত্যু: জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর মা
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী