ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে মোংলা উপজেলায় ৩৬১ জন জেলে সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল পাবেন। তাদের প্রত্যেককে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সাজ্জাদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘সরকারি হিসাব অনুযায়ী নিবন্ধিত জেলে ৬ হাজার ৭০১ জন। এরমধ্যে কাঁকড়া শিকারী ২ হাজার ৫শ জন। বাকি ৪ হাজার ২০১ জনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞার সময়ে ৩৬১ জন জেলে সরকারি সহায়তা পাবেন। তাদেরকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।’
জাতীয় মৎস্য সমিতির মোংলা শাখার সভাপতি বিদ্যুৎ মন্ডল জানান, দেশের অন্যান্য এলাকায় জেলেদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হলেও মোংলার প্রায় ১০ হাজার জেলের জন্য কোনও ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা মৎস্য বিভাগ। অথচ অন্যসব এলাকার জেলেদের জন্য জেলে কার্ডের মাধ্যমে চাল দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কপালে নেই। যেটুকু করা হয়েছে, তা চাহিদার তুলনায় খুবই সীমিত। যারা ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন না, তারা না খেয়ে থাকবেন।
মোংলা উপজেলার চিলা, জয়মনি, সোনাইলতলা ও সুন্দরবন গ্রামের এক লাখ জেলে পরিবার মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। তাদের জীবিকার একমাত্র উৎসই হচ্ছে নদীতে মাছ ধরা। নিষেধাজ্ঞার জন্য তারা নদীতে নেমে কোনও প্রকার মাছ ধরতে না পারায় কষ্টে আছে তাদের পরিবার।
সুন্দরবন, চিলা ও চাঁদপাই এলাকার জেলে, রবি রায়, বাপ্পী রায়, প্রশান্ত মন্ডল, আতাহার শিকদার, জয়নাল ও মো. শরিফের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সংসার জীবন বলতে বারো মাসই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় আমাদের। এটাই আমাদের পেশা। মাছ ধরেই আমাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াসহ সংসারের সব খরচ চালাতে হয়।
৭ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। চলবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে মোংলা ও সুন্দরবন এলাকার নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।








