বাগেরহাট শহরের দক্ষিণ সরুই এলাকায় হোসনেআরা বেগম (৫৮) নামে এক গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগে সহোদরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে লুট করা স্বর্ণালংঙ্কার ও হত্যার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তিনি আরও জানান,মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মাহফুজ আবজালের নেতৃত্বে একটি দল শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এসময় উদ্ধার হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে, ২টি স্বর্ণের বালা, ১টি স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া কানের দুল এবং হত্যায় ব্যবহৃত ১টি চাকু ও ১টি বটি।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গোবাড়িয়া গ্রামের বাবুল শেখের দুই ছেলে মো. রিয়াজ শেখ (২২) ও মো. রিয়াদ শেখ (২০) এবং একই গ্রামের ইউনুস তালুকদারের ছেলে মো. মিরাজুল ইসলাম পাপন (১৯)।
পুলিশ জানায়, তাদের পরিবার প্রায় একযুগ আগে জীবিকার তাগিদে মোরেলগঞ্জ থেকে বাগেরহাট শহরের দক্ষিণ সরুই এলাকার ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করে। তারা পেশায় রাজমিন্ত্রী ও অটোরিকশা চালক। গ্রেফতার তরুণদের চিনে ফেলায় হোসনেয়ারা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে।
২১ মার্চ রাতে শহরের দক্ষিণ সরুই এলাকায় হোসনেআরা বেগমকে গলাকেটে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত। ঘটনার পরদিন নিহতের বড় ছেলে ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ফরিদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
নিহত হোসনেআরা বেগম বাগেরহাট শহরের দক্ষিণ সরুই এলাকার গণপূর্ত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিমের স্ত্রী।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন,‘এই তিন তরুণ মিলে হোসনেআরা বেগমের বাড়িতে চুরি করতে যায়। ওই বাড়িতে যাওয়ার পর হোসনেআরা বেগম তাদের চিনে ফেলায় প্রথমে তাকে আঘাত করা হয়। পরে তাদের কাছে থাকা চেতনানাশক স্প্রে দিয়ে অজ্ঞান করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলাকেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরে ঘরের আলমারি ভেঙে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ এক লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।







