রমজানে বাগেরহাটে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা। রমজান মাসের শুরুতেই শসা, কলা ও লেবু রোজাদারদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাগেরহাটে যথাযথ বাজার মনিটারিং ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে সাধারণ জনগণ। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি ২/১টি পণ্য ছাড়া তেমন কোনও পণ্যের দাম রমজার উপলক্ষে বাড়েনি।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার বাগেরহাটের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানের শুরুতে কোনও কারণ ছাড়াই বাজার দর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। উত্তপ্ত আবহাওয়া ও উত্তপ্ত বাজার দরে বাগেরহাটের মানুষের এখন নাভিশ্বাস উঠছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে খাদ্য পণ্যের মূল্য অনেক বেড়েছে। রমজান মাসের ইফতারের মেন্যুতে লেবুর শরবত, শশা ও কলা সব পরিবারেই থাকে। কিন্তু এবার রমজানের শুরুতেই এসব খাবার মধ্যবিত্ত রোজাদারদের ধরাছোয়ার বাইরে চলে গেছে। বাগেরহাট শহরের বাজারে প্রতি কেজি শশা ৩৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত এক সপ্তাহ আগে ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। লেবু বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি (৪টি) ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ১৬ থেকে ২০ টাকা।
এছাড়া, আলু প্রতি কেজি ১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৮ টাকা, পিয়াজ ২৪ টাকা থেকে বেড়ে ২৬ টাকা, রসুন ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, ছোলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মুসুড়ির ডাল ৫২ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা (আমদানীকৃত), দেশি ৯০ থেকে বেড়ে ১শ’ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেড়স ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পটল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা, চিড়া ৪০ টাকা, মুড়ি ৮০ টাকা থেকে ১শ’ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রমজান মাসে সেহেরি ও ইফতারের প্রধান মেন্যু কলা প্রতি ডজন (১২টি) বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১শ’ ২০ টাকায়, তাল মিসরীর কেজি ৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১শ’ টাকা।
এদিকে, মাছের বাজারে চলছে ব্যাপক সঙ্কাট। মাছের মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে। কেজি সাইজের রুই মাছ ২৭০ থেকে ৩শ’ টাকা, কাতলা মাছ ২শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা, ইলিশ মাছ ৬শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা, চিংড়ি মাছ সাড়ে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ থেকে ১২শ’ টাকা কেজিতে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫শ’ টাকা থেকে বেড়ে ৫শ’ ২০ টাকা, খাসির মাংস ৭শ’ টাকা থেকে বেড়ে ৭শ’৫০ টাকা হয়েছে।
বাজারে নিত্যপণ্যের এজাতীয় লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির কারণে অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। অস্বাভাবিক এমূল্য বৃদ্ধি জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণে না থাকার সুযোগে হয়েছে বলে মনে করছে সাধারণ জনগন।
বাগেরহাটে শহরের হাড়িখালী এলাকার মোমিন উদ্দিন বলেন,‘একদিকে প্রচণ্ড গরম অপর দিকে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন মানুষকে দিশেহারা করে ফেলেছে। নিম্ন আয়ের মানুষগুলো আজ চরম অসহায় দাবি করেন তিনি।
তবে এ ব্যাপারে বাগেরহাটের জেলা কৃষি বিপণ কর্মকর্তা (বাজার কর্মকর্তা) জিএম মহিউদ্দীন কোনও পন্যের দাম বাড়েনি জানিয়ে বলেন, ‘বাগেরহাটের বাজার নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত তাদের কাছে কোনও অভিযোগ নেই।’








