যশোরের মণিরামপুরে সান্ধ্যকালীন কোচিংয়ে দাখিলের এক পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছে ওই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষকের নাম তরিকুল ইসলাম।
ঘটনাটি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বিকালে স্থানীয় লোকজন ঝাঁপা দক্ষিণপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার শাহাদৎ হোসেনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মণিরামপুর সদর সার্কেলের এএসপি রাকিব হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অন্যদিনের মতো গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষার্থী তাদের মাদ্রাসা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সান্ধ্য কোচিংয়ে যায়। কোচিং শেষে অন্যরা চলে গেলে মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষক নজরুল ইসলাম মেয়েটিকে চকোলেট খেতে দেয়। চকোলেট খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে জ্ঞান হারায়। এরপর মাদ্রাসার মৌলভী তরিকুল ইসলাম তাকে ধর্ষণ করে টয়লেটের পাশে ফেলে রেখে যায়।
এদিকে, কোচিং শেষে মেয়েটি বাসায় না ফেরায় রাতে স্বজনরা তার খোঁজে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখেন সেখানে কেউ নেই। একপর্যায়ে টয়লেটের গলিতে তাকে রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নেওয়া হয়। জ্ঞান না ফেরায় রাত দুটার দিকে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ২ অক্টোবর বাড়িতে ফিরে মেয়েটি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ লোকজন বৃহস্পতিবার বিকালে মাদ্রাসায় হামলা চালায়। তারা মাদ্রাসার সুপারকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
খবর পেয়ে মণিরামপুর থানার পুলিশ মাদ্রাসার সুপার শাহাদৎ হোসেনকে উদ্ধার করে। এরপর সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
ছাত্রীর অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানায়, গত ১৫-২০ দিন ধরে ওই মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য সান্ধ্যকালীন কোচিং চালু করে কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন দুজন করে শিক্ষক ১৫-১৭ জন ছাত্রীকে কোচিং করান। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কৃষি শিক্ষক তরিকুল ইসলাম ও সহকারী মৌলভী শিক্ষক নজরুল কোচিং করান।
সহকারী পুলিশ সুপার (মণিরামপুর সার্কেল) রাকিব হাসান বলেন, ‘ ধর্ষণের ঘটনা ৩০ সেপ্টেম্বর ঘটলেও বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) রাতে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক গাঢাকা দিয়েছে। তবে, তাকে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। ’ তিনি বলেন, ‘মেডিক্যাল টেস্টের জন্যে মেয়েটিকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’







