বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে কন্টেইনার ট্রেনে পণ্য আমদানি শুরু হয়েছে। রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে উক্ত ট্রেনের উদ্বোধন করেন বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার আজিজুর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম, বন্দর পরিচালক আব্দুল জলিল, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজনসহ অনেকে।
এ দিন দুপুরে কন্টেইনার কর্পোরেশনের ৫০টি সাইডডোর কন্টেইনার পি অ্যান্ড জি বাংলাদেশ লিমিটেডসহ মোট ৮টি কোম্পানির ৬৪০ টন পণ্য ভারত থেকে আসে। এতে ছিলো কসমেটিকস ও গার্মেন্টস সামগ্রী। কন্টেইনার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার এজেন্সি হিসাবে টিসিআই বাংলাদেশ লিঃ এবং এটির ভেণ্ডর পার্টনার এম এম ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভারত থেকে প্রথম কন্টেইনার ট্রেনে করে মালামাল আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক আব্দুল জলিল ও বেনাপোল স্টেশন ম্যানেজার সাহিদুজ্জামান।
জানা যায়, করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে ভারত সরকার গত ২২ মার্চ থেকে বেনাপোল বন্দরের সঙ্গে রেল ও স্থল পথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়। এতে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে প্রায় ৫ হাজার ট্রাক পণ্য নিয়ে আটকা পড়ে। রফতানি পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরেও আটকে পড়ে ট্রাক। এ কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। ভারতে লকডাউন কিছুটা শিথিল হলেও শুরু হচ্ছিল না বাণিজ্য। সে সময় বিকল্প মাধ্যম হিসেবে দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কন্টেইনার ট্রেন সচলের আলোচনায় বসে।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, করোনার শুরুতে উভয় দেশের আমদানি রফতানি বানিজ্য ব্যহত হচ্ছিল। কন্টেইনার ট্রেনের মাধ্যমে আমদানি বানিজ্য শুরু হওয়াতে আমাদের ষ্টেক হোল্ডারসহ সকল ব্যবসায়ীর বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন দিগন্তের সুচনা হলো। এতে সময় খরচ যেমন বাঁচবে তেমনি যথেষ্ট নিরাপদও। ভারত থেকে এভাবে মালামাল আসলে রেল খাতেরও উন্নয়ন হবে। বন্দর চার্জ পাবে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, কন্টেইনার ট্রেনে পণ্য আমদানির ফলে ব্যবসায়ীরা যেমন কম খরচে পণ্য পরিবহন করতে পারবেন তেমনি দ্রুত পণ্য গন্তব্যেও নিতে পারবেন।
সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন ছিলো কন্টেইনার ট্রেনে করে ভারত থেকে পণ্য আমদানি করা। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হলো। বাড়বে সরকারের রাজস্ব আয়ও।
ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কর্মাস ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, আরও অনেক আগে এ পথে কন্টেইনার ট্রেনের মাধ্যমে পণ্য আমদানির কথা ছিল। নানা সমস্যার কারণে এতদিন তা হয়নি। এ নিয়ে অনেক বৈঠক ও চিঠি চালাচালি হয়েছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে স্থল পথের পাশাপাশি রেল পথে পণ্য আমদানি বাণিজ্য সম্পাদনে বড় ভূমিকা রাখবে।
বেনাপোল স্টেশন ম্যানেজার সাইদুজ্জামান জানান, আগে রেলে যে পণ্য আমদানি হতো তা ৫০ কিলোমিটার দূরে যশোরের বসুন্দিয়ায় নিয়ে খালাস করতে হতো। কন্টেইনার ট্রেনের পণ্য বেনাপোল বন্দরে খালাস হবে। এতে কাস্টমস, আমদানিকারক, ট্রান্সপোর্ট ও বন্দর সবার সুবিধা হলো।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল জানান, পণ্য বেনাপোল বন্দরে খালাসের সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা রাজস্ব পরিশোধ, কাস্টমস ও বন্দরের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বন্দর থেকে খালাস নিতে পারবেন।







