খুলনা অঞ্চলে পাটের চাষ খুব বেশি হয় না। তারপরও এবার খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় ৫০ হাজার একর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যা থেকে ২ লাখ ৫৩ হাজার বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতোমধ্যেই চাষিরা পাট জাগ দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। কোথাও কৃষকরা পাটের আশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
খুলনা-সাতক্ষীরা সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় নাকে আসে পাট জাগ (পাট পচানো) দেওয়ার গন্ধ। চুকনগর থেকে এ গন্ধ আরও বেশি ঝাঁঝালো হয়। চুকনগর হয়ে সাতক্ষীরা ও যশোরের দিকে যেতে এ গন্ধ বেশি আসে। এই গন্ধই কৃষকের স্বপ্ন পূরণের বার্তা দিচ্ছে। এ গন্ধই জানান দিচ্ছে সোনালী আঁশের সুবার্তা।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, একবিঘা জমিতে ১২-১৪ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদন হয়। আর বিঘা প্রতি পাট চাষে কৃষকের খরচ হয় ৪ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত পাটের পাশাপাশি ৮০-৯০ আটি পাটকাঠি হয়। যার প্রতি আটির দাম ৫০-৬০ টাকা। এবার কৃষকরা বেশি চাষাবাদ করেছেন বিএডিসি-১ এবং বিজিআরআই-৮ জাতের পাট।
ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনার পাটচাষি হাবিবুর রহমান মোড়ল জানান, এবার পাটের উৎপাদন অনেক ভালো। বিএডিসি-১ জাতের পাট চাষা করেছি। এই পাট কেটে এখানে লাল শাকের বীজ বুনবো। এখন আর জমি ফেলে রাখি না। গত বছর পাট চাষে লাভ করতে পারিনি। এবার পাটের উৎপাদনে আশার আলো দেখছেন তিনি।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাদ্দেক হোসেন জানান, যে জমিতে পাট চাষা হয় সেই জমিতে পরের বছর সার কম লাগে।
খুলনা বিভাগীয় পাট অধিদফতরের সহকারী পরিচালকের কার্যলয়ের সহকারী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, এবার পাটের দাম মণ প্রতি ২২০০-২৪০০ টাকা। উৎপাদনও ভালো। এবার আবহাওয়ার জন্য ২০-২৫ শতাংশ উৎপাদন কম হয়েছে। তারপরও পাটের দাম ভালো থাকার কারণে কৃষকের পুষিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে ব্যাপারীরা পাট কিনতে শুরু করেছেন।








