২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী ৬৩ জেলার মধ্যে সাতক্ষীরার পাঁচটি স্থানে জেএমবির বোমা হামলা মামলায় ১৫ আসামির মধ্যে পাঁচ মামলায় ৮ জনকে সর্বোচ্চ ১৩ বছর, ২ জনকে ৬ বছর এবং আরও ২ জনকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া সাজাপ্রাপ্ত সকল আসামিকে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এসময় দুজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। অপর এক আসামির আগেই মৃত্যু হয়। অপর একটি মামলায় আসামিদের খালাস দেওয়া হয়। সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক শরিফুল ইসলাম বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন কলারোয়ার পুটনী গ্রামের আলী আকবরের ছেলে নাইম ওরফে আবদুন নাইম, সাতক্ষীরা সদরের পাথরঘাটা গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে ফকরউদ্দিন রাজী, শহরের ইটাগাছা মধ্যপাড়ার মনির উদ্দীন সরদারের ছেলে মো. মনোয়ার হোসেন ওরফে উজ্জল, শহরের ইটাগাছার মৃত কেরামত আলীর ছেলে মো. মনিরুজ্জামান ওরফে মুন্না, সদরের কাসেমপুরের মৃত. ওমর আলীর ছেলে গিয়াসউদ্দিন সরদার, জামালপুর জেলার চরশী খলিফাপাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে বেলাল হোসেন ওরফে আব্দুল্যাহ, একই এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে মো. ইসমাইল ওরফে মো. হাবিবুর রহমান, মো. মাহবুবুর রহমান ওরফে লিটন ওরফে পলাশ ওরফে সানা, আশাশুনির কুল্যা গ্রামের মৃত. আব্বাস আলীর ছেলে নূর আলী মেম্বার, সদরের খড়িবিলা গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে মো. মোন্তাজ ওরফে মমতাজ ওরফে মোন্তাজ আলী, একই গ্রামের আব্দুল মাজেদ সরদারের ছেলে মো. আসাদুল, শহরের ইটাগাছা পশ্চিম পাড়ার ওমর আলী সরদারের ছেলে মো. আনিসুর রহমান খোকন। এদের মধ্যে পলাতক নাইম ওরফে আবদুন নাইম, ফকরউদ্দিন রাজী ও মো. মনোয়ার হোসেন ওরফে উজ্জল। খালাস প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মো. সাইফ ওরফে আসাদুজ্জামান ওরফে হাজারী ওরফে সাইদ ও আবুল খায়ের।
সাতক্ষীরার পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ জানান, ২০০৫ এর ১৭ আগস্ট শহরের শহীদ রাজ্জাক পার্ক, জেলা জজ আদালত চত্বর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত চত্বর, বাস টার্মিনাল ও খুলনা মোড়সহ পাঁচটি স্থানে একযোগে বোমা হামলা ও নিষিদ্ধ লিফলেট ছড়ানোর ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিনই সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বোমা হামলাকারী শহরতলীর বাঁকালের দলিলউদ্দিন দফাদারের ছেলে নাসিররুদ্দিন দফাদার প্রত্যক্ষদর্শী বাকাল ইসলামপুর চরের রওশানের দেওয়া বিবরণ মতে ধরা পড়ে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সাতক্ষীরার রসুলপুরে জেএমবির ঘাঁটি চিহ্নিত করা হয়। এই সূত্র ধরে ভারতীয় নাগরিক গিয়াসউদ্দিনসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে ঢাকায় জেআইসিতে (জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠানো হয়। সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া ছাড়াও জেএমবির বহু গোপন তথ্য জানায় তারা। পরে তাদের ফিরিয়ে আনা হয় সাতক্ষীরায়।
২০০৬ সালের ১৩ মার্চ সিআইডি সবগুলো মামলায় ১৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। সে বছরই মামলাগুলো খুলনার দ্রুত বিচার আদালতে পাঠানো হয়। যথা সময়ে নিষ্পত্তি না হওয়ায় ২০০৭ এর ২৫ জুন মামলাগুলো খুলনা থেকে ফেরত আসে সাতক্ষীরায়। ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ম আদালতে মামলা গুলোর বিচার কাজ শুরু হয়। সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়েরকৃত মামলাটিও ২০০৮ সালে বিচার শুরু হয়। আসামিদের মধ্যে শায়খ রহমান, বাংলা ভাই ও আতাউর রহমান সানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদেরকে এসব মামলার আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এসব মামলায় অভিযোগ পত্রের ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদীসহ ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেন করেন আদালত।
এই ৫টি মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী আ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তারা ন্যায়বিচার পাননি। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।









