ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে দুই জনের বাড়ি যশোরে। এর মধ্যে একজনের নাম আলামিন (২৪) এবং অপরজনের নাম তানিয়া (২০)। আলামিন যশোর সদরের চাঁচড়া মধ্যপাড়া এলাকার মাজেদ আলী ওরফে মনু মিয়ার ছেলে। আর তানিয়ার বাড়ি অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় এলাকায় বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৯ মে) রাতে চাঁচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সেলিম আহমেদ শান্তি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বেঙ্গালুরুর ঘটনার ভিডিও প্রচার হওয়ার পর আলামিনের বাড়ির এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেছেন। তবে, তাদের দাবি ৭-৮ মাস আগে আলামিনকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, আলামিন ছোটবেলা থেকে বদ টাইপের ছেলে। আগে তারা চাঁচড়া পোস্ট এলাকায় থাকতো। সেখানে ছিনতাই, মাদকগ্রহণসহ নানাবিধ অপরাধের কারণে স্থানীয়রা তাদের এলাকাছাড়া করেন। পরে তার ভ্যানচালক বাবা চাঁচড়া মধ্যপাড়া এলাকায় তিন শতাংশ জায়গা কিনে সেখানে সেমিপাকা একটি বাড়ি বানান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আলামিন খুব বদটাইপের ছেলে। সে একাধিক বিয়ে করেছে। সর্বশেষ তার স্ত্রী শারমিন ভারতে কাজ করতেন। আলামিন তারই সঙ্গে ভারতে ছিল। তারা দুজনই খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত। বাড়ির মধ্যেই তারা নেশা করতো। আট মাস আগে তারা বাড়ির ভেতরে গণ্ডগোল করায় বাবা মনু মিয়া তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেন। সেই থেকে ছেলে বাড়িতে না এলেও তার স্ত্রী মাসখানেক পর ফিরে আসেন এবং আগের মতো আচরণ করতে থাকেন। সে কারণে মাস ছয় আগে তাকেও বের করে দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে মাজেদ আলী ওরফে মনু মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে ও ছেলের বউ দুজনই খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল। সে কারণে তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে কোনও খবর জানিনে। ছেলের বউ বর্তমানে তার বাবার বাড়ি রয়েছে বলে জানান তিনি।
যোগাযোগ করা হলে আলামিনের স্ত্রী শারমিন বলেন, ‘আমি তার ৩ নম্বর বউ। ভিডিওতে তাদের ঘটনা জানতে পারি। সে নওয়াপাড়ার ভেকুটিয়া এলাকার মেয়ে তানিয়াকে ভারতে নিয়ে গেছে। সেখানেই তারা থাকে।’
এক প্রশ্নের জবাবে শারমিন বলেন, ‘আমি আগে ভারতে খারাপ কাজ করতাম। আলামিন আমাকে ভালো করেছে। দেশে এনেছে। এখন আমার একটি ছেলে রয়েছে। কিন্তু সে কিংবা আমার শ্বশুরবাড়ির কেউই আমাকে দেখতে পায় না। মাস ছয় আগে তারা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিম আহমেদ শান্তি বলেন, ‘আলামিন ছোটবেলা থেকেই বদ। তার বদমায়েশির কারণে একবার এলাকাছাড়া করা হয়। আমি তার ভিডিও দেখেছি। তার কারণে এলাকার সম্মান নষ্ট হয়ে গেলো।’ তিনি বলেন, ‘আলামিনের ওইটুকু বয়সেই ৪টা বিয়ে হয়ে গেছে। আমিই তিনটে বিয়ের কথা জানি, তাদের নিয়ে সালিশও হয়েছে।’
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত ২১ মে ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি এক তরুণীকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়। এই নির্যাতনের জড়িত অভিযোগে ছয় জনকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ। তারা সবাই একই গ্রুপের এবং সবাই বাংলাদেশি বলে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাটি প্রচার হওয়ার পর নির্যাতনের শিকার তরুণীর বাবা ঢাকার হাতিরঝিল থানায় মানবপাচার ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন। ওই তরুণীকে পাচার করে নিয়ে যাওয়ার মূল হোতা টিকটক হৃদয় বাবুর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় এ নিয়ে দেশে একাধিক গণমাধ্যমে খবর প্রচার হয়েছে। তবে নির্যাতনের ভিডিওতে থাকা যশোরের আলামিন ও তার কথিত স্ত্রী তানিয়াকে শনাক্ত করেন তার প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যরা।
জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি তানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘নির্যাতনের ওই ঘটনাটি আপনাদের মতো আমিও শুনেছি। একজনের বাড়ি যশোর সদরের চাঁচড়ায় জানতে পেরেছি। অফিসিয়ালি কোনও তথ্য আমার কাছে নেই।’









