সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত পদে কারচুপি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ইভিএম মেশিনে এসডি কার্ডের মাধ্যমে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছেন পরাজিত প্রার্থী। গত ৩১ মার্চ মামলাটি করা হয়। এ আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি ওই পৌর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিবাদীদের নোটিশ পাঠিয়েছেন।
জেলা যুগ্ম ও দায়রা জজ প্রথম আদালত ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল মামলাটি করেন পরাজিত প্রার্থী জোৎস্না আরা। মামলায় নির্বাচিত জবা ফুলের প্রার্থী নুর জাহান বেগমকে প্রথম ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ৩১ জনকে পর্যায়ক্রমে বিবাদী করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মামলার দুটি ধার্যদিন অতিবাহিত হওয়ার পর প্রথম বিবাদী সম্প্রতি আদালতের নোটিশ পেয়েছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওই দিন সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ করেই গণনা শুরু হয়। এ সময় নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী বাদী প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ও প্রতিনিধিদেরকে বুথ ও কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে একটি ফরমে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং তাদের অনুপস্থিতিতে ভোটের ফলাফল ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে। বুথ ভিত্তিক ভোট এসডি কার্ডে সংরক্ষিত ছিল, তা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার রুমে রক্ষিত কন্ট্রোল ইভিএম মেশিনে কপি পেস্ট না করেই ৮ থেকে ১৫ নম্বর বিবাদীরা আগে থেকে তৈরি করা ফলাফল সংবলিত অন্য একটি এসডি কার্ডের মাধ্যমে প্রিন্ট করে ফলাফল ঘোষণা করে। সঠিকভাবে গণনা করলে বাদী বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন বলে দাবি করা হয়েছে। ১৬ থেকে ৩১ নম্বর বিবাদীদেরকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হলেও তারা কোনও পদক্ষেপ নেননি। ফলে সেখানে ১৬ কেন্দ্রের ৯৩ বুথে ফের নির্বাচন করার দাবি জানান তিনি।
বিজয়ী নুর জাহান বেগম ছাড়াও মামলায় আরও বিবাদী করা হয়েছে, আনারস প্রতীকের প্রার্থী তাজিনা আক্তার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সচিব, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা খুলনা, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুল কবির, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ঢাকার আইডিইএ প্রকল্প টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিম লিডার আরাফাত হোসেন, অ্যাসোসিয়েট আইডিইএ প্রকল্পের মোখলেচুর রহমান, একই বিভাগের টেকনিক্যাল সাপোর্ট আমির হোসেন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আশরাফুল আলম ও শরিয়তুল্লাহ, মেশিন অপারেটর ফারুক হোসেন ও মোহাম্মদ ইসমাইল ও স্ক্যানিং অপারেটর মাহমুদুর রহমানকে।
পাশাপাশি এ মামলার অন্যান্য বিবাদী হলেন- প্রিসাইডিং কর্মকর্তা (প্রাণিসম্পদের) জয়দেব কুমার সিংহ, সমাজ সেবার মিজানুর রহমান, মৎস্য কর্মকর্তা হাসান সাজ্জাদ, রিসোর্স সেন্টারের ইয়াছিন আলী, যুব উন্নয়নের সঞ্জিব কুমার দাস, পলিটেকনিকের শেখ আহসান কবির, সদর উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের আবু তাহের, সদর উপজেলা সমবায় অফিসার করিমুল হক, জনস্বাস্থ্যের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান, পিটিআইয়ের ইন্সট্রাক্টর আকবর হোসেন, সদর উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার সহিদুর রহমান, সদর পল্লী উন্নয়ন অফিসার ইসরাইল হোসেন, পলিটেকনিকের ইন্সট্রাক্টর ফারুক হোসেন, সদরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার মন্ডল, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন ও সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক শাহিনুর রহমান।
তবে বিজয়ী নুর জাহান বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই সংরক্ষিত এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩২ হাজার ৭০৬ জন। পরাজিত প্রার্থী চশমা প্রতীকে পেয়েছিলেন পাঁচ হাজার ৮৬৮ এবং আমি জবা ফুলে ভোট পেয়েছি ১১ হাজার ৮৮৫টি। বিগত পৌরসভা নির্বাচন জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা যথেষ্ট স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। যা সাতক্ষীরাবাসী দেখেছেন। এতদিন পর নির্বাচনে কারচুপির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা আদৌ যুক্তি সঙ্গত নয়। আমি সম্প্রতি আদালতের নোটিশ পেয়েছি, আগামী ৬ জানুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে জবাব দিয়ে মামলাটি চ্যালেঞ্জ করা হবে।’
প্রায় একই অভিযোগে মামলা করেছেন ওই পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত এলাকার পরাজিত প্রার্থী ফারহা দিবা খান সাথী।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল কবীর বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচনে তথাকথিত অনিয়মের বিষয়ে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত এলাকার পরাজিত প্রার্থী জোৎস্না আরা ও ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত এলাকার পরাজিত প্রার্থী ফারহা দিবা খান সাথী পৃথক দুটি মামলা করেছেন। উভয় মামলায় একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। আমরা আদালতের নোটিশ পেয়েছি। যেহেতু বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। তাই আদালতেই এর সমাধান হবে।’








