X
রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
২১ মাঘ ১৪২৯

আজকের দিনে কলারোয়ায় উড়েছিল বিজয়ের পতাকা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৫৩আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৫৩

আজ ৬ ডিসেম্বর সাতক্ষীরার কলারোয়া হানাদারমুক্ত দিবস। একাত্তরের আগুনঝরা এই দিনে কলারোয়া এলাকা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখল মুক্ত হয়। আজকের দিনে কলারোয়ার আকাশে ওড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। মুক্তিকামী মানুষের উল্লাসে মুখর হয় পাকবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞে ক্ষত-বিক্ষত কলারোয়া। 

মহান মুক্তিযুদ্ধে কলারোয়ার ৩৪৩ জন বীর সন্তান অংশ নেন। তাদের মধ্যে শহীদ হন ২৭ জন। কলারোয়া অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে প্রবাসী সংগ্রাম পরিষদ। মুক্তিযুদ্ধে কলারোয়া এলাকা ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের অধীন। 

একাত্তরে কলারোয়া এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণে সর্বপ্রথম শহীদ হন মাহমুদপুর গ্রামের আফছার সরদার। এরপর এপ্রিলে হানাদার বাহিনী কলারোয়ার পালপাড়ায় হামলা চালিয়ে গুলি করে হত্যা করে ৯ জন কুমোরকে। পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধ পরিচালনা করেন কলারোয়ার দুই বীর যোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন ও আব্দুল গফফার। সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে সংঘটিত এক রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধে ৬ শতাধিক পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। কলারোয়ায় তাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি বড় ধরনের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এর মধ্যে ১৮ সেপ্টেম্বরের বালিয়াডাঙ্গা যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। 

এই যুদ্ধে ২৯জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। শহীদ হন ১৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া ১৭ সেপ্টেম্বর কলারোয়ার কাকডাঙ্গার যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে পাকসেনারা কাকডাঙ্গা ঘাঁটি ছাড়তে বাধ্য হয়। এর আগে ২৭ আগস্ট সমগ্র চন্দনপুর এলাকা পাকবাহিনী মুক্ত হয়। অক্টোবরের শেষ দিকে মুক্তিযোদ্ধারা কলারোয়ার পার্শ্ববর্তী বাগআঁচড়ায় দুঃসাহসিক হামলা চালিয়ে ৭জন পাক রেঞ্জারকে হত্যা করেন। খোরদো এলাকাও বীর ‍মুক্তিযোদ্ধারা হানাদারমুক্ত করে ফেলেন। কলারোয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের লাগাতার সফল অপারেশনের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়ে পাকিস্তানি বাহিনী। 

হানাদাররা যখন বুঝতে পারলো যে তাদের পরাজয় নিশ্চিত ও আসন্ন, তখন তারা ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনা করে। এরই অংশ হিসেবে ৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কলারোয়ার বেত্রবতী নদীর লোহার সেতু মাইন বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে যায়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধারা নৌকাযোগে নদী পার হয়ে এসে কলারোয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে আনেন। সময় তখন ভোর ৫টা ১৫ মিনিট। এভাবে একেকটি সফল অপারেশনের মধ্য দিয়ে অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর কবল থেকে কলারোয়ার মাটিকে মুক্ত করেছিলেন আজকের এই দিনে। 

কলারোয়া থানা চত্বরে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে সবুজের বুকে রক্তসূর্য খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান মুক্তিকামী বীরযোদ্ধা ও জনতা। শুধু মুক্তিযোদ্ধারা না, কলারোয়ার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের কথা মানুষের স্মৃতিপটে আজও অমলিন। তারা মেধাও প্রজ্ঞা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন। 

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশপাশি তাদের প্রতিও জাতি জানায় সশ্রদ্ধ অভিবাদন। তারা হলেন-প্রয়াত মমতাজ আহম্দে, তাঁর ভাই শহিদ এসএম এন্তাজ আলি, স্বর্গীয় শ্যামাপদ শেঠ, ভাষাসৈনিক প্রয়াত শেখ আমানুল্লাহ, প্রয়াত বিএম নজরুল ইসলামসহ অনেকেই। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও সংগঠকদের সুচিন্তিত দিক নির্দেশনায় অবশেষে কলারোয়ার পবিত্র ভূমি হানাদার মুক্ত হয় ৬ ডিসেম্বর। 

কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান, দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উপজেলা কমান্ড কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে রয়েছে সকাল ৭টায় জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৭টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সকাল ১০টায় একাত্তরের বেশে বিজয় শোভাযাত্রা, সকাল সাড়ে ১০টায় কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে স্মৃতিচারণমূলক সভা ও বিকালে দোয়া অনুষ্ঠান।

/এসএইচ/
সর্বশেষ খবর
গণজাগরণ মঞ্চের দশক পূর্তি আজ
গণজাগরণ মঞ্চের দশক পূর্তি আজ
বারবার বলেছি আর মারিস না, নেপথ্যে মোটরসাইকেলের মালিকানা
বারবার বলেছি আর মারিস না, নেপথ্যে মোটরসাইকেলের মালিকানা
মাহফুজ আহমেদের ফেরা এবং দীর্ঘ আবেগী আলাপ
মাহফুজ আহমেদের ফেরা এবং দীর্ঘ আবেগী আলাপ
সর্বকালের সেরা বলিউড ছবির পথে ‘পাঠান’
সর্বকালের সেরা বলিউড ছবির পথে ‘পাঠান’
সর্বাধিক পঠিত
দিনদুপুরে তালা ভেঙে ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা লুট
দিনদুপুরে তালা ভেঙে ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা লুট
ক্রাইম প্যাট্রল থেকে কৌশল শিখে ৫ কিশোরের এক রোমহর্ষক কিলিং মিশন
ক্রাইম প্যাট্রল থেকে কৌশল শিখে ৫ কিশোরের এক রোমহর্ষক কিলিং মিশন
শাকিব ও জোভান প্রসঙ্গে মুখ খুললেন পূজা!
শাকিব ও জোভান প্রসঙ্গে মুখ খুললেন পূজা!
রডের টন লাখ ছুঁই ছুঁই
রডের টন লাখ ছুঁই ছুঁই
‘পুরো ইউক্রেন পুড়বে’
‘পুরো ইউক্রেন পুড়বে’