ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে হতদরিদ্র ও দুস্থদের জন্য সরকারের বরাদ্দের ভিজিএফের চাল জব্দের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার (১ মে) রাতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বাদী হয়ে উপজেলার ৩ নম্বর তাহেরহুদা ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর রাশেদের নামে মামলাটি করেন।
গত ৩০ এপ্রিল বিকালে ওই ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউন থেকে ৩৮ বস্তা (১৯০০ কেজি) ভিজিএফের চাল জব্দ করা হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান জানান, গত ৩০ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ওই ইউপি কার্যালয়ে যান। ওই সময় পরিষদের গোডাউনে রক্ষিত হতদরিদ্র ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দের ভিজিএফের ৩৮ বস্তা চাল দেখতে পান। সেগুলো জব্দ করে সেখানেই সিলগালা করা হয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সোমবার রাতে মামলা করা হয়।
জানা গেছে, উপজেলার ৩ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদে ঈদের আগে দুস্থদের জন্য সরকার ৩৬ হাজার ১২০ কেজি ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয়। ৩ হাজার ৬১২ জন মানুষের তালিকা করে প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা। স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যান মঞ্জুর রাশেদ ভিজিএফের সেই সব চাল বিতরণ না করে ৩৮ বস্তা চাল ইউপি কার্যালয়ের গোডাউনে রেখে দেন।
ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ওহিদুল ইসলাম বলেন, ভিজিএফের চাল বিতরণ না করে রেখে দেওয়ার নিয়ম নেই। ঈদের আগেই চাল বিতরণ করতে হবে। কিন্তু চেয়ারম্যান ৩৮ বস্থা চাল আত্মসাতের জন্য রেখে দেন।
এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর রাশেদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঈদের আগে দুস্থদের তালিকা করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। অনেকে চাল নিতে আসেনি। মাস্টারোলে তাদের নামের জায়গা ফাঁকা রয়েছে। কোনও অসৎ উদ্দেশ্যে এই চাল রাখা হয়নি। এটি আমার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র।’
হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দুস্থদের জন্য সরকারের বরাদ্দের ভিজিএফের ৩৮ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় এ বিষয়ে মামলা হয়েছে।’
হরিণাকুন্ডু থানার ওসি (তদন্ত) আক্তারুজ্জামান লিটন বলেন, আমি উপজেলার বাইরে আছি। তবে এ ঘটনায় ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









