যশোরে স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসানসহ ৬০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলার উত্তর লাউড়ী গ্রামের বিএনপি কর্মী আনিসুর রহমানকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় তার ভাই মফিজুর রহমান বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এমএ গফুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের বিচারক ইমরান আহমেদ মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মণিরামপুর থানার ওসিকে আদেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আনিসুর রহমান বিএনপির রাজনীতি করায় স্থানীয় এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বিরোধ ছিল। বিরোধের জের ধরে ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর ভোরে ৬০-৭০ জন একযোগে আনিসুরের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা তৎকালীন এমপি স্বপন ভট্টাচার্য্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে আনিসুরকে কুপিয়ে জখম করে পায়ে গুলি করে। পরে স্থানীয় থানার ওসিকে ডেকে আনিসুরকে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন যশোর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে আনিসুরের লাশ পাওয়া যায়। হত্যার ঘটনায় থানায় ও আদালতে অভিযোগ দিলেও তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আসামিদের প্রভাব কমায় ন্যায় বিচার পেতে এ মামলা করেছেন বলে জানান আনিসুর রহমানের ভাই মফিজুর রহমান।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- মণিরামপুর থানার তৎকালীন ওসি বিপ্লব কুমার নাথ, উত্তর লাউড়ী গ্রামের নিরাপদ ঘোষের ছেলে আরাধন ঘোষ, অজিত ঘোষের ছেলে রিপন, সুমন, সুজন, হামিদ শেখের ছেলে ইদ্রিস আলী, গোবিন্দ কুমারের ছেলে মিলন, অভিন্দ্রনাথ ঘোষের ছেলে মনোরঞ্জন ঘোষ, জাহান আলী গাজীর ছেলে বাবলু, রফিকুল, ভুট্টো, শফিকুল, ফজলু আলীর ছেলে আহাদ আলী, আমিন গাজীর ছেলে ফজলু গাজী, গোলাম রহমানের ছেলে মকলেছুর রহমান, মুকুল, গোলাম কুদ্দুসের ছেলে মুকিত, গৌর ঘোষের ছেলে দীলিপ, মুছার ছেলে হেলাল, আব্দুল আজিজের ছেলে রাজ্জাক, আব্দুস সাত্তারের ছেলে আনার, সুকুমার ঘোষের ছেলে লিটন ঘোষ, মুজাম গাজীর ছেলে আবুল হোসেন, হামিদ শেখের ছেলে কাশেম, মকছেদ আলীর ছেলে কামরুল, জামালের ছেলে আমীনুর, নুর আলীর ছেলে আলীম।
আরও আসামিরা হলেন আজিবরের ছেলে জসিম, গোবিন্দ সিংয়ের ছেলে সাধু, মোহাম্মদের ছেলে করিম, সাধুর ছেলে সুমন, নিরাপদ ঘোষের ছেলে অজিত ঘোষ, দক্ষিণ লাউড়ী গ্রামের বদী নাথ ঘোষের ছেলে দীপক, জুনাব আলী মোড়লের ছেলে আহাদ আলী, সুন্দরপুর গ্রামের আব্দুলের ছেলে শাহিন, আমিনপুর গ্রামের মৃত: নওয়াব আলীর ছেলে সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান (মনি), ঘুঘুরাইল গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ইউনুস আলী, খোকনের ছেলে মুকুল, খোদা বক্সের ছেলে ইউনুচ আলী, কাশিপুর গ্রামের হাসান বারীর ছেলে ফয়সাল, গিরিনের ছেলে অরবিন্দু, তোফাজ্জেলের ছেলে আশিকুর রহমান, আহম্মদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন, হালসা গ্রামের রওশনের ছেলে হোসেন, আমীনপুর গ্রামের ওমর আলীর ছেলে আলমগীর চেয়ারম্যান, মাঝ লাউড়ী গ্রামের মান্নানের ছেলে আসাদ, তৌহিদ, মোসলেম উদ্দিনের ছেলে ইমরান, গরীবপুর গ্রামের শফি কামালের ছেলে জুয়েল, সেলিম, আরশাদ আলীর ছেলে ইউসুফ আলী, হাসেম আলী, নুর আলী, ডাঙ্গামসদা গ্রামের জামাল গাজীর ছেলে মফিজুর রহমান, পাড়ালা গ্রামের স্বপন ভট্টাচার্য্যের ছেলে শুভ, ধামালে গ্রামের খান টিপু সুলতানের ছেলে সাদাব সুলতান, হাকোবা গ্রামের গোলাম আলীর ছেলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু, সুনীলের ছেলে বাচ্চু ও হেলাঞ্চি গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে আব্দুল আলিম জিন্নাহ।









