বাগেরহাটের রামপালে মৈত্রী সুপার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত নয় জন ভারতীয় কর্মকর্তা কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন। তারা সবাই ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) থেকে প্রেষণে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মকর্তা ছিলেন। অনুমতি ছাড়াই শনিবার সকালে তারা কর্মস্থল ছেড়ে দেশে ফিরে যান।
রবিবার বিকালে বিষয়টি জানিয়েছেন রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম। তিনি বলেন, ‘শনিবার সকালে নির্ধারিত সময়ে তাদের পাওয়া না যাওয়ায় খোঁজখবর নেওয়া শুরু করি আমরা। পরে জানতে পারি অনুমতি ছাড়াই ভারতীয় ওই কর্মকর্তারা চলে গেছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে নিরাপত্তাঝুঁকির কথা জানান তারা। যদিও বিদ্যুৎকেন্দ্রে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আছে। এ ধরনের ঝুঁকি কখনোই ছিল না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
ওসব কর্মকর্তা হলেন- তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার প্রতিম ভর্মন, বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও এন সুরায়া প্রকাশ রায়; সহকারী জেনারেল ম্যানেজার কেশবা পালাকি ও পাপ্পু লাল মিনা; ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুরেয়া কান্ত মন্দেকার, সুরেন্দ্র লম্বা ও অনির্বাণ সাহা এবং সিএফও ইমানুয়েল পনরাজ দেবরাজ।
বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে নাশতার টেবিলে ওই কর্মকর্তাদের না পেয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে জানা যায়, কাউকে না জানিয়ে তারা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চলে গেছেন। পরে প্রকল্প পরিচালক রামানাথ পুজারীকে বিষয়টি জানালে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে বাংলাদেশ ছেড়েছেন বলে জানান ওসব কর্মকর্তা।’
বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি সূত্র জানায়, শনিবার ভোরে তারা নিজ নিজ গাড়ি নিয়ে একে একে বের হয়ে যান। সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন তারা।
তবে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু আছে। এর আগে ওই কর্মকর্তারা নিরাপত্তা নিয়ে কখনও কোনও অভিযোগ বা উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ দেশ ত্যাগ করায় বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন তারা।









