বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার কচুড়িয়া গ্রামের মধ্যপাড়া থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পর জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায় একদল গ্রামবাসী।
ওই শিশুর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকাল ৫টার পর থেকে তাকে খুঁজে পাচ্ছিল না পরিবার। পরে স্বজনেরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত পৌনে ৮টার দিকে মধ্যপাড়ার একটি পানের বরজের পাশে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় গলাকাটা লাশ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থল গিয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় লাশের পাশে একটি পানির বোতল পাওয়া যায়।
লাশ উদ্ধারের পর জাহাঙ্গীরের পানের বরজ ও বসতবাড়ির অন্তত দুটি ঘরে অগ্নিসংযোগ, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় ওই বাড়িতে থাকা হাঁস-মুরগিসহ সবকিছু লুটপাট করে একদল লোক। আগুনে ঘরগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিস মোল্লাহাট স্টেশনের স্টেশন অফিসার শরিফ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে আছি। এখানকার পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, পুলিশ এলে আমরা ঘটনাস্থলে প্রবেশ করবো।’
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জাহাঙ্গীর ও তার দুই ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন বলেন, ‘বিক্ষুব্ধ কিছু গ্রামবাসী খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশি হেফাজতে থাকা জাহাঙ্গীরের বসতবাড়িতে এবং পানের বরজে অগ্নিসংযোগ করেছে। শিশু খুনের ঘটনার পর ওই এলাকাটি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।’
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় জাহাঙ্গীর ও তার দুই ছেলেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’