সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাঁসখালী গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র হেরিংবন্ড রাস্তা থেকে বিপুল পরিমাণ ইট তুলে নেওয়া, আত্মসাৎ এবং অন্য একটি রাস্তার কাজে ওই ইট ব্যবহার করে কাবিটা প্রকল্পের বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইট তুলে নেওয়া রাস্তা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তারা।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, উত্তর গাইয়াখালী ব্রিজ থেকে হাঁসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়া সড়কটি প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি ইটের হেরিংবন্ড সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, কয়েক মাস আগে সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্র সরকার ওই রাস্তা থেকে আনুমানিক ৫০ হাজার ইট তুলে নেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তা থেকে ইট তোলার সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে ইউপি সদস্যের লোকজন তাদের ভয়ভীতি দেখান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে রাস্তা থেকে ইট তুলে নেওয়ায় বর্ষা মৌসুমে মাটি ধুয়ে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও নিচু হয়ে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া ইটের একটি অংশ পাশের একটি কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের নতুন ইট ব্যবহার না করে অন্য রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া ইট দিয়ে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী বাবুরাম মণ্ডল বলেন, উত্তর গাইয়াখালী ব্রিজ থেকে হাঁসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়া রাস্তার অধিকাংশ ইট ইউপি সদস্য তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে গ্রামবাসী বাধা দিয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, ইট অন্যত্র কাজে ব্যবহার করে পরে এই রাস্তা সংস্কার করে দেওয়া হবে। কিন্তু ইট তুলে নেওয়ার পর রাস্তা সংস্কার করা হয়নি। বর্ষায় রাস্তা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি রাস্তা থেকে কার অনুমতিতে ইট তুলে নেওয়া হয়েছে এবং এটি সংস্কারের দায়িত্ব কার- আমরা এর তদন্ত ও সুষ্ঠু ব্যবস্থা চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা ভক্ত কুমার বৈরাগী অভিযোগ করেন, হাঁসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তারিকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার জন্য কাবিটা প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ ছিল। কিন্তু নতুন ইট ব্যবহার না করে অন্য রাস্তা থেকে ইট তুলে এনে এখানে ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুলের মাঠ থেকে বালু ব্যবহার করে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বিল তুলে নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের লোকজনের ভয়ে তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। সরকারি সম্পদের এমন অপব্যবহারের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইট আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে কাবিটা প্রকল্পের কাজে অন্য রাস্তার ইট ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনও বক্তব্য দেননি।
এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, ঘটনাটি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।