‘দাদা তপন বলছি’ শুনলেই কেন বুক কাঁপতো সবার, সেই নারী কে ছিলেন?

হেদায়েৎ হোসেন, খুলনা
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২ আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক সময়ের মূর্তিমান আতঙ্ক জনযুদ্ধ নেতা দাদা তপন। নাম শুনলে এখনও আঁতকে ওঠেন অনেকেই। কথিত বন্দুকযুদ্ধে সেই দাদা তপন নিহত হন। খুলনা অঞ্চলে চরমপন্থি দলের রাজনীতিতে অনেকেই জড়িত ছিলেন। কিন্তু তপন মালিতার (দাদা তপন) নাম শুনলে কিংবা সামনাসামনি দেখা হলে শরীরের রক্ত হিমশীতল হয়ে যেতো।

চরমপন্থি সংগঠন জনযুদ্ধের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুর রশিদ মালিথা, ওরফে তপন মালিথা, ওরফে দাদা তপন ২০০৮ সালের ১৮ জুন র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দাদা তপনের নিথর দেহ পড়ে ছিল কুষ্টিয়া সদরের বাড়াদি স্কুলপাড়া গ্রামে। ওই বাড়িটি ছিল তার নিজের। রিক্তা নামে এক নারীও তার সঙ্গে নিহত হন। তিনি তার সহযোগী ছিলেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সময়ের মাদ্রাসাছাত্র ও মসজিদের খণ্ডকালীন ইমাম ছিলেন এই তপন মালিথা। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের পশ্চিম বিষয়খালী গ্রামের ইবাদত হোসেন মালিথার ছেলে তিনি।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি দলে দাদা তপনের উত্থান ছিল চমকে ভরা। মানুষ খুনের পাশাপাশি চাঁদাবাজির জন্য ঝিনাইদহসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে নির্বিচারে বোমাবাজির অনুঘটক ছিলেন। তার নিশানা থেকে বাঁচার কোনও পথ ছিল না। পুলিশের হেফ্জত থেকেও তিনি কয়েকবার পালিয়েছেন। জেলাব্যাপী গলা কেটে একের পর এক যখন হত্যা আর রক্তের হোলি খেলায় মেতে ছিলেন তপন, সে সময় পুলিশ অনেকটাই খেই হারিয়ে ফেলে। গোয়েন্দা তথ্য ভুল প্রমাণিত করে একের পর এক হত্যা ও বোমাবাজি চালান নিজ জেলা ঝিনাইদহ শহরে। তার সংগঠন খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময়ে গ্রামের অধিকার বঞ্চিত, অভাবী ও বিচার বঞ্চিত নিম্ন পরিবারের যুবকরা প্রতিশোধ নিতে নাম লেখায় জনযুদ্ধে। 

তার বাহিনীন তাণ্ডবে প্রায়ই মাঠে-ময়দানে পড়ে থাকতো ছিন্নভিন্ন মানুষের লাশ। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই রোমহর্ষক খুনের চিত্র চোখে পড়তো। খুনের পর ফোনে এবং ফ্যাক্স করে হত্যার দায় স্বীকার করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতো তপন বাহিনী। নিজেও সবসময় বলতেন, ‌‘দাদা তপন বলছি।’ শুনলেই আতঙ্কগ্রস্ত হতেন যে কেউ। এভাবে টালমাটাল পরিস্থিতি চলার পর সদর উপজেলার ১৮ মাইল নামক স্থান থেকে ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়ার সুমন নামে এক যুবক র‌্যাবের জালে ধরা পড়েন। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ১৭টি মোবাইল সিম। 

খোঁজ মেলে দাদা তপনের আস্তানার। নিখুঁত ছক আর নিশানায় র‌্যাব-১২ ও র‌্যাব-৬ কুষ্টিয়া সদরের বাড়াদি স্কুলপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। দিনের আলো কেবল ফুটতে শুরু করেছে। প্রাচীর টপকে র‌্যাবের চৌকস দল প্রবেশ করে বাড়ির ভেতরে। সঙ্গে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ইউনিটের ইনচার্জ মেজর আমজাদ হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। সফলভাবে শেষ হয় অপারেশন। শেষ হয় দাদা তপনের অধ্যায়। 

নিহত তপনের পাশে তখনও পড়ে ছিল তার প্রিয় একে-৪৭ রাইফেলটি। দাদা তপন নিহত হওয়ার পর তার আইটি উইংয়ের প্রধান ছোট ভাই আকাশ, টিক্কা ও তার দলের কয়েকজন বন্দুকযদ্ধে নিহত হন।

যেকোনও হত্যাকাণ্ডের পর দাদা তপনের ছোট ভাই আকাশ ফ্যাক্সবার্তায় হত্যার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিতেন। মুকুটহীন সম্রাটের মতোই দাদা তপন আন্ডারওয়ার্ডে ছড়িয়ে দেন বিভীষিকা। তার আগ্রাসী তৎপরতায় পূর্ববাংলার অপর গ্রুপ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি, শ্রমজীবী মুক্তি আন্দোলন, গণমুক্তিফৌজ, কৃষক সংগ্রাম সমিতি, জাসদ গণবাহিনী, সর্বহারা পার্টিসহ গোপন এবং প্রকাশ্য সংগঠনগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ঝিনাইদহের অনেক বড় বড় নেতা ও ঠিকাদারদের নিয়মিত চাঁদা দিতে হতো দাদা তপনকে। এর ব্যতিক্রম হলে বোমার ঝাঁক গিয়ে পড়তো ওসব নেতার বাড়িতে অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৯০-এর দশকের শুরুতে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির দাপট বাড়ে। সে সময় ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হিঙ্গেরপাড়া গ্রামের দর্জি টিপু ছিলেন এ জেলায় আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির মুকুটহীন সম্রাট। টিপু সঙ্গী হিসেবে পান আরেক চরমপন্থি ইছাকে। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ইছা। দলীয় ক্যাডাররা বিশ্বাসঘাতকতা করে টিপু ও তার তিন সঙ্গীকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার এক বিলের মধ্যে জীবন্ত কবর দেয়। শেষ হয় টিপু অধ্যায়। এভাবে ক্ষমতার পালা বদলে আন্ডার ওয়ার্ড অশান্ত হয়ে পড়ে।

১৯৯৭ সালের দিকে বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে ঝিনাইদহের মীর ইলিয়াস হোসেন দিলিপের নেতৃত্বে গঠন করা হয় শ্রমজীবী মুক্তি আন্দোলন। দলের সামরিক শাখার নাম দেওয়া হয় গণমুক্তি ফৌজ। বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির বেশিরভাগই গণমুক্তিফৌজে যোগ দেয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ১৯৯৯ সালে চরমপন্থীদের সাধারণ ক্ষমার সুযোগ দেন। শুরু হয় আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া। এ সময় বিপ্লবী ও পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি আত্মসমর্পণে সাড়া দেয়নি। 

২০০০ সালের ১৫ জানুয়ারি শহরের পাগলাকানাই মোড়ে গুলিতে সঙ্গী আলফাজসহ নিহত হন মীর ইলিয়াস হোসেন দিলীপ। ২০০২ সালের দিকে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙে এমএল লাল পতাকা, এমএল জনযুদ্ধ ও এমএল যোদ্ধা— এই ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সামরিক শক্তি এবং হত্যা কৌশলের দিক থেকে আবদুর রশিদ মালিথা ওরফে দাদা তপনের নেতৃত্বাধীন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল জনযুদ্ধ) শীর্ষে চলে যায়। বিচার না করে গ্রাম-শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষকে হত্যার নিশানা বানিয়ে দাদা তপন সবার কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায়।

এ অবস্থায় একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়ে ‘আমি আবির হাসান বলছি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে মিরপুর উপজেলার মালিহাট গ্রামের নছর হত্যার দায় স্বীকারের মাধ্যমে আতঙ্কের সৃষ্টি করেন। এ ছাড়াও সিরাজ, লাল্টু, ঠাণ্ডুসহ অনেকই ছিলেন চরমপন্থী নেতা।

দাদা তপনের আগে দেশে সবচেয়ে সাড়া জাগানো ‘ক্রসফায়ারের’ শিকান হন সিলেটের বুনিয়াদি পরিবারের সন্তান কমরেড মোফাখখার চৌধুরী। তিনি ছিলেন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির একজন শীর্ষ নেতা। সাহিত্যিক ও লেখক হিসেবেও তার সুখ্যাতি ছিল। ২০০৪ সালে ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে তৎকালীন র‌্যাব। পরে র‌্যাবের তরফ থেকে জানানো হয় মোফাখখর চৌধুরী ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। মোফাখখর চৌধুরী নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু বৃদ্ধিজীবী।

২০০৮ সালে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নিহত হন নিষিদ্ধ সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল লাল পতাকা) শীর্ষ নেতা কোটচাঁদপুরের ডা. মিজানুর রহমান টুটুল ওরফে রাকেশ কামাল। এমবিবিএস চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান টুটুল আটক হবার পর তার মা নভেরা খাতুন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আকুতি জানিয়েছিলেন যে, তার ছেলেকে যেন ‘ক্রসফায়ারে মারা না হয়’।

তবে ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে জনযুদ্ধের দাদা তপনই এক মূর্তিমান আতঙ্ক ছিলেন, যা এখনকার প্রজন্মের কাছে রূপকথার গল্পের মতো।

আব্দুর রশিদ মালিথা ওরফে দাদা তপন (৪৫) ছিলেন একজন মাদ্রাসা ছাত্র। কওমি মাদ্রাসার অন্যতম বড় ডিগ্রি দাওরা হাদিস পাসের পর কুষ্টিয়ার একটি মসজিদের খণ্ডকালীন ইমামের চাকরিতেও নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ধীরে ধীরে জড়িয়ে যান বাম রাজনীতিতে। এক সময়ে শীর্ষ চরমপন্থী নেতা হন। তিনি অস্ত্র হিসেবে সব সময় ব্যবহার করতেন একে-৪৭ রাইফেল। ছিল তার নিজস্ব ডেথ স্কোয়াড। একবার কুষ্টিয়া থানায় হামলা চালিয়ে ৫ পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে অস্ত্রও লুট করিয়েছিলেন। আন্ডারওয়ার্ল্ডে তার খেতাবি নাম ছিল দাদা তপন।

খুলনার রূপসা ঘাটের টোল নিয়ে বিরোধ থাকায় বিরোধী পক্ষকে ওপেন ব্রাশ ফায়ার করেন। নিহত হয় ৬ জন। প্রতিটি বড় কিলিং মিশনের পর একটি কমন প্যাটার্ন ছিল লাশের পাশে বা ঘটনাস্থলে একটি চিঠি বা চিরকুট ফেলে রাখা। তাতে লেখা থাকতো— ‘জনগণের শত্রুকে খতম করা হলো-দাদা।’ তার বাহিনী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদা, মেহেরপুর, চূয়াডাঙ্গা মাগুরা, নড়াইল, সাতক্ষীরা, খুলনা, মংলা, বাগেরহাটে হাই-প্রোফাইল খুন বা বোমাবাজি করার পরপরই খবরের কাগজ ও পুলিশ ফাঁড়িতে ফ্যাক্স বার্তা বা ফোন করে বুক ফুলিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করতেন এবং প্রশাসনকে ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতেন। কোনও কোনও এলাকায় প্রতিপক্ষ গ্রুপ যখন শক্তিশালী অবস্থানে থাকতো, তখন তাদের যাতায়াতের কাঁচা রাস্তায় বা মেঠোপথে রিমোট কন্ট্রোলড বা শক্তিশালী দেশীয় তৈরি বোমা (আইইডি) পুঁতে রাখা হতো। প্রতিপক্ষ দলের লাইন-কমান্ডাররা যখন দলবল নিয়ে হেঁটে বা মোটরসাইকেলে ওই পথ দিয়ে যেত, তখন দূর থেকে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদের উড়িয়ে দেওয়া হতো।

১৫ বছরের ক্যারিয়ারে একবারও জেল খাটেননি তপন। পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও তার বাহিনীর তৎপরতায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তার ও তার বাহিনীর হাতে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ খুন হয়েছেন।  বেশিরভাগই জবাই করে হত্যা করা হতো। 

 

/এপিএইচ/এএম/
সম্পর্কিত
ভারতে পালানোর সময় হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ২
‘দিন যাচ্ছে আর দাম বাড়ছে, হিসাব মেলানোই কষ্ট’: রাজধানীতে সবজির বাজারে হাহাকার
যে বাড়ি পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরিতে, ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অভিনেত্রীর রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছিল বার্তা
সর্বশেষ খবর
সৌদিতে সেনা মোতায়েনে সম্মত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের দেশগুলো
সৌদিতে সেনা মোতায়েনে সম্মত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের দেশগুলো
ভারতে পালানোর সময় হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ২
ভারতে পালানোর সময় হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ২
রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৪৭, মামলা ৫৮
রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৪৭, মামলা ৫৮
পঞ্চগড়ের সাবেক এমপি নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া গ্রেফতার
পঞ্চগড়ের সাবেক এমপি নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
একসঙ্গে ১৯ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে পড়তে পারেন গ্রাহক
একসঙ্গে ১৯ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে পড়তে পারেন গ্রাহক
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি, আজ গুলি করে হত্যা: বাঁচাতে পারেনি পুলিশ
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি, আজ গুলি করে হত্যা: বাঁচাতে পারেনি পুলিশ
‘৫ লাখ টাকাই লাগবে, এটা ভিপি নুরের নির্দেশ’ অডিও ভাইরাল: যুব অধিকারের সভাপতি বহিষ্কার
‘৫ লাখ টাকাই লাগবে, এটা ভিপি নুরের নির্দেশ’ অডিও ভাইরাল: যুব অধিকারের সভাপতি বহিষ্কার
রাস্তায় অটোরিকশা নেই, প্রেসক্লাবের সামনে চালকদের সমাবেশ
রাস্তায় অটোরিকশা নেই, প্রেসক্লাবের সামনে চালকদের সমাবেশ
কোয়েল মল্লিক কত টাকার মালিক, জানা গেলো হলফনামায়
কোয়েল মল্লিক কত টাকার মালিক, জানা গেলো হলফনামায়