সাতক্ষীরার সদর উপজেলায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান পলাতক আসামি মোশাররফ হোসেন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বিলাশ মন্ডলের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানায় আসামি। তবে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামিপক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী সফিউল ইসলাম সফি।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন শিশুটির মা।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন (৬০) পলাতক ছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের মৃত আছিদুর রহমান খান চৌধুরীর ছেলে। সে বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের শ্যালক।
স্থানীয় সূত্র ও শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার বিকাল ৩টার দিকে বাড়ির পাশে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলতে বের হয়েছিল শিশুটি। বিকাল গড়িয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় তার দাদি ও চাচি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বাড়ির ছাদ থেকে শিশুটিকে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ওই বাড়ির ছাদে নিয়ে যায় মোশাররফ হোসেন। সেখানে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়।
স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর বিষয়টি প্রকাশ না করতে এবং পুলিশকে না জানাতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ কারণে তারা প্রথমদিকে ভয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে নিতে সাহস পাননি। পরে রবিবার তারা শিশুটিকে যশোরের বাগআঁচড়া এলাকায় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। ঘটনাটি জানাজানি হলে সদর থানার পুলিশ তৎপর হয়।
মঙ্গলবার সকালে শিশুটিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। একই দিন তাকে সাতক্ষীরা আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক হাকিম তনিমা মণ্ডলের আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, শিশুটির চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর আদালতে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল। অবশেষে আজ আসামি নিজেই আদালতে আত্মসমর্পণ করায় তাকে কারাগারে পাঠানো হলো।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, শিশুটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই শাহারিয়ার।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, তার বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ফুটেজ পরীক্ষা করলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। শ্যালক অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত। তবে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন।