সোমবার সোহাগপুর গণহত্যা দিবস

শাহরিয়ার মিল্টন, শেরপুর
২৫ জুলাই ২০১৬, ২৩:১২আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৬, ২৩:১৫

২৫ জুলাই। সোহাগপুর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এদিনে  পাকিস্তানি বাহিনীর নিষ্ঠুরতম গণহত্যায় নারী শিশুসহ নিহত হয় ১৮৭ জন নিরীহ গ্রামবাসী, বিধবা হয় ৫৭জন গৃহবধূ। স্বাধীনতার দীর্ঘ  ৪৫ বছর পর  সোহাগপুর বিধবা পল্লীর ১৩ জন বীরাঙ্গনার মধ্যে ৪ জন পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ।

সোহাগপুরের বিধাবপল্লীর বিধবারা

শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলো মিটার দূরে নালিতাবাড়ি উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রাম। ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই সোহাগপুর গ্রামের মানুষের জন্য বীভৎস একটি দিন। ওইদিন সকাল  ৭ টায় সোহাগপুরবাসীর উপর নেমে এসেছিল পাক বাহিনী ও রাজাকারদের আকস্মিক এবং নারকীয় নির্যাতন ও গণহত্যা। সোহাগপুর গ্রামে কোন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তবে পাশ্ববর্তী গ্রাম বারুয়াজানীর ঘরে ঘরে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। তাই ওই গ্রামবাসী কখনো ভাবেনি পাকবাহিনী দ্বারা তারা আক্রান্ত হবেন।

অনেকটা শান্তিতে দিন যাচ্ছিল তাদের, কিন্তু ২৫ জুলাই সকালে যখন গ্রামবাসীরা আমন ধান রোপনের কাজে ব্যাস্ত ছিল ঠিক তখন ওইদিকে ব্যাস্ত ছিল পাকিস্তানি বাহিনী আর রাজাকার বাহিনীরা। স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাক বাহিনীরা গ্রামটির তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে ঠিক পলো দিয়ে মাছ ধরার মতো। কেউ কোনও কিছু বুঝে উঠার আগেই যাকে যেভাবে পেয়েছে সেখানেই নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে। এখানেই শেষ নয়, বর্বর হানাদার বাহিনীর দলকে দেখে নিরীহ গ্রামবাসীরা যখন ঘরে এসে আত্মগোপন করছিল তাদেরকে সে ঘর থেকেই বের করে স্ত্রী সন্তানদের সামনেই গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে হত্যা করা হয় ১৮৭ জন নীরিহ মানুষকে।

শিশু -পুরুষ কেউই রেহাই পায়নি এ হত্যাযজ্ঞ থেকে। পাক বাহিনী গ্রাম ছেড়ে চলে গেলে গ্রামবাসীরা ধীরে ধীরে ফিরে আসে। এখানে সেখানে পরে থাকা লাশ মশারি, শাড়ি, কলাপাতা পেঁচিয়ে কোন মতে মাটি চাপা দিয়ে রাখে।

একসময় দেশ স্বাধীন হয়। স্বামীহারা ওইসব পরিবারের শুরু হয় কঠিন জীবন সংগাম। পুরুষশূন্য এ গ্রামটির নামকরণ হয় ‘বিধবা পল্লী’। বর্তমানে এ বিধবা পল্লীতে কালের সাক্ষী হয়ে বেচেঁ  রয়েছেন ৩০ জন বিধবা।  এসব বিধবারা তাদের ভবিষ্যত নিয়ে এখনও শংকায় রয়েছেন । বিভিন্ন সময়ে তাদের সাহায্য সহযোগিতায় অনেকেই এগিয়ে এলেও কার্যকর ও স্থায়ী কোনও উপকার পাননি তারা।

সরকারিভাবে এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে এ দিবস উপলক্ষে কোনও কর্মসূচী গ্রহণ করা না হলেও কেবল শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে  শহীদদের স্মরণে মিলাদের আয়োজন করা হয়। ফলে অনেকটা নীরবেই কেটে যায় সোহাগপুর বিধবা পল্লীর গণহত্যা দিবস।

/এইচকে/

ছবি: সংগ্রহ

আরও পড়ুন: নোয়াখালীর সেই ইমামের হাতে ছিল ইসলামী আন্দোলনের প্রচারপত্র

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি