জামালপুরে কৃষি জমিকে অকৃষি জমি দেখিয়ে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি ছাড়াই গড়ে তোলা এসব ইটভাটার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং কৃষিকাজের ওপর। ছাড়পত্র না থাকলে ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আহম্মেদ কবির।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কৃষি জমিকে অকৃষি বা বন্যা কবলিত এলাকা এবং এক ফসলী জমি দেখিয়ে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে তুলেছেন। ইটভাটার কারণে ধান, সবজি, আম, কাঁঠাল ও নারিকেলসহ বিভিন্ন ফলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষির ক্ষতির পাশপাশি এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। নানা রকম রোগবালাই দেখা দিচ্ছে।
জেলার মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন জানান, ৩০ হাজার জনসংখ্যার ছোট এই ইউনিয়নে ১১টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার কারণে এই ইউনিয়নের প্রায় ৬০-৭০ ভাগ কৃষি জমি কমে গেছে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরকে দায়ী করেছেন এই জনপ্রতিনিধি।
মেলান্দহের জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন নবনির্মিত ইটভাটার মালিক আরিফুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, ‘কৃষি বিভাগের ছাড়পত্র, প্রশাসনের অনুমতি এবং পরিবেশ অধিদফতরে আবেদন করে ইটভাটার কাজ করছি। আমার ইটভাটায় এলাকার পরিবেশ ও ফসলের কোনও ক্ষতি হবে না।’
জামালপুর জেলা প্রশাসন দফতরের হিসাবে জেলায় ৭৮টি ইটভাটা দেখানো হলেও বাস্তবে রয়েছে এর চেয়ে বেশি। চলতি মৌসুমে নতুন আরও ১১টি ইটভাটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এসব ইটভাটার মধ্যে ৩টি ভাটার লাইসেন্স এবং ৫টির পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র আছে। বাকিগুলো অবৈধভাবে চললেও কোনও আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন না স্থানীয় প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক আহম্মেদ কবির জানান, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া এবং পরিবেশ সম্মত না হলে ইটভাটা নির্মাণ করা যায় না। যাতে জনবসতি ও কৃষির ক্ষতি না হয় সেভাবেই ইটভাটা নির্মাণ করা হবে। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








