জামালপুরে বন্যায় অসহায় লক্ষাধিক মানুষ

জামালপুর প্রতিনিধি
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫৩আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫৩

জামালপুরে লক্ষাধিক মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তবে কমতে শুরু করেছে যমুনা নদীর পানি। এতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও শুরু হয়েছে নদীভাঙন। গত ২৪ ঘণ্টায় নয় সেন্টিমিটার কমেছে যমুনা নদীর পানি।

শনিবার (০৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, ‘যমুনা নদীর পানি দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’

এদিকে, দুর্যোগ মোকাবিলায় ১৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হলেও অনেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে খোলা আকাশের নিচে, উঁচু স্থানে ও স্বজনদের বাড়িতে। এমন চিত্র দেখা গেছে ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নে।

চিনাডুলি ইউনিয়নের দেওয়ানপাড়া এলাকার মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা হইলাম কপালপুড়া। বন্যা আইলেই আঙ্গর জ্বালা শুরু হয়ে যায়। সব জায়গায় পানি। কোনও জায়গায় যে এল্লা রান্না কইরে খামু। এই উপায়ডা নাই। খুব কষ্টে আছি গো।’

একই এলাকার বাসিন্দা কদ্দুছ মিয়া বলেন, ‘পানি কমতে শুরু করছে। এখন ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতি বছর বন্যা আমাদের সবকিছু নিয়ে যায়।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার ছয় উপজেলার ৬৮ ইউনিয়নের ৩৯টির ১৬৯টি গ্রাম বন্যাকবলিত। হিসাবে ২৫ হাজার পরিবারের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। একই সঙ্গে পানি কমতে থাকলেও যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙনের কারণে গৃহহীন হয়ে পড়েছে ৬৫টি পরিবার।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সাখাওয়াৎ ইকরাম বলেন, বন্যার পানিতে তিন হাজার ৬২৩ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রোপা আমন ধান তিন হাজার ৫৩০ হেক্টর, আমন বীজতলা ৪৫ হেক্টর এবং বিভিন্ন শাকসবজি ৪৮ হেক্টর।

জেলার ছয় উপজেলার ৬৮ ইউনিয়নের ৩৯টির ১৬৯টি গ্রাম বন্যাকবলিত

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী বলেন, বন্যার্তদের মাঝে ইতোমধ্যে ১১২ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৩৪ লাখ টাকা এবং এক হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বরাদ্দের পরিমাণ খুবই কম। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে আরও বরাদ্দের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে বিতরণ করা হবে।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৮৫টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত করা হয়েছে। টিমে ৪২৫ জন স্টাফ কাজ করছেন। মূলত বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সময় ডায়রিয়াসহ নানা রোগ দেখা দেয়। তখন মেডিক্যাল টিমের সংখ্যা বাড়াবো। এ ছাড়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সবসময় সতর্ক আছে।

আবু সাঈদ বলেন, তথ্য অনুযায়ী যমুনা নদীর পানি আর বাড়বে না। এখন নদীর পানি কমতে থাকবে। এই সপ্তাহে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে চলে যাবে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

তিনি আরও বলেন, বন্যার কারণে কিছু জায়গায় তীব্র ভাঙনের দেখা দিয়েছে। এখন নদীর পানি বেশি থাকায় ভাঙনরোধে কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। ভাঙনরোধে কাজ শুরু করলেও বেশি একটা লাভ হবে না। তাই পানি কিছুটা কমলে ভাঙনরোধে কাজ শুরু করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

/এএম/
সম্পর্কিত
সাত নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা
বন্যা-জলাবদ্ধতায় ফসলহানি: হাওর রক্ষায় টেকসই পরিকল্পনার আহ্বান
‘পানিতে পচে গেলো কষ্টের ফসল, সারা বছর খাবো কী’
সর্বশেষ খবর
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম