ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের পূর্বঘোষিত কর্মী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পদপ্রত্যাশী ও সাধারণ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং সম্মেলনে যোগদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর নির্দেশনায় তার অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছেন।
ভুক্তভোগী নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৩ জুন) ভালুকা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের কর্মী সম্মেলনের দিন ধার্য ছিল। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার রাতে ভালুকা মডেল থানা পুলিশের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী শাহরিয়ার অলিউল্লাহ অনন্তর বাড়িতে গিয়ে গ্রেফতারের হুমকি ও সম্মেলনে না যাওয়ার জন্য নিষেধ করা হয়। শনিবার সকালে শাহরিয়ার অলিউল্লাহ অনন্ত তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ভালুকা পাঁচ রাস্তার মোড়ে জড়ো হতে থাকলে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় ছত্রভঙ্গ হয়ে জীবন বাঁচাতে অনন্ত ও তার সমর্থকরা ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থান নেন।
উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী ও বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফ হাসান তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে হবিরবাড়ী ইউনিয়নের আল মদিনা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে জড়ো হলে সেখানেও ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় সম্মেলনে যাওয়ার জন্য ভাড়া করা ১৪টি বাস চালকদের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত নেতাকর্মীদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রাফিউল্লা চৌধুরী তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে চৌধুরী বাড়ির সামনে সমবেত হওয়ার সময় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা তাদের দুটি ট্রাক পাঁচ রাস্তার মোড়ে আটকে ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া উত্তরা ইউনিয়ন থেকে আসা দুটি টাটা এইচ ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভালুকা ডিগ্রি কলেজের ভেতর আটকে রাখা হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে রাফিউল্লা চৌধুরীর পিতা ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা তার ওপরও চড়াও হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
শাহরিয়ার অলিউল্লাহ অনন্ত, শরীফ হাসান জানান, গত দুই দিন ধরে শাহরিয়ার অলিউল্লাহ অনন্ত, শরীফ হাসান ও রাফিউল্লা চৌধুরীর সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা হুমকি দিয়ে আসছিল। নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকেই সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতারা এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ এবং যথাযথ সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রত্যেকটি পদের বিপরীতে ১০ জনের ওপরে প্রার্থী রয়েছেন। এক প্রার্থী আরেক প্রার্থীকে সড়কের অলিগলিতে বিভিন্ন জায়গা আটকানোর চেষ্টা করছেন বলে আমরা শুনেছি। ছোটখাটো হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখবো। এরপর যোগ্য এবং দলের ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে বিভিন্ন পদে জায়গা দেওয়া হবে।’
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রাফিউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কর্মী-সমর্থক এবং যানবাহন বিভিন্ন পয়েন্টে আটকে হামলা করেছেন শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং যুবদলের কর্মীরা। এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে আমাদেরকে আটকানোর জন্যই করা হয়েছে। বিশেষ করে আমার কর্মী সমর্থকদের ট্রাক আটকে রাখা হয়েছিল। তখন আমার বাবা পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কর্মী-সমর্থকদের সহযোগিতা করতে যাওয়ায় আমার বাবা সাইফুল্লাহ চৌধুরীর ওপরও হামলা করা হয়। এই ঘটনায় আমরায় বিচার দাবি করছি।’









