হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামটি, নির্ঘুম রাত যমুনা পাড়ের মানুষের

জামালপুর প্রতিনিধি
১৭ জুন ২০২৬, ১০:০৫ আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ১০:০৫

জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার মন্নিয়ারচর এলাকায় যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে শতাধিক বসতভিটা ও কয়েক শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে| ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ফসলি জমি।

এছাড়া ৮ কোটি টাকার ব্যয়ে সোলার প্যানেল, গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা ভাঙনের হুমকির মুখে আছে। ভাঙন রোধে কোনও সমাধান না পেয়ে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় বাাঁশ দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন এলাকাবাসী।

গত বছর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের চর মন্নিয়া গ্রামটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এবার অসময়ে ভাঙনে পূর্ব মন্নিয়া গ্রামটির মুসলিম মিয়া, বারেক শেখ,  সুলতান বেপারী, রফিক মিয়া, আয়নাল  হক, জাহিদুল হক, আব্দুস সামাদ দোকানদার, নাসির উদ্দিন, আবু তালেব, ফোরকান মিয়া, আনিছুজ্জামান,  সুকুর মিয়ার পরিবারসহ প্রায় শতাধিক বাড়িঘর নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে তীব্র আকারে ভাঙন চলছে। এ অবস্থায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষগুলো।  দ্রুত ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নিতে না পারলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে ৭০ বছরের পুরোনো দ্বীপচর মন্নিয়ার গ্রামটি। এলাকাবাসী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছেন।

স্থানীয় লোকজন বলেন, যমুনার ভাঙনে বিগত দিনে চর মন্নিয়া গ্রাম বিলীন হয়ে গিয়েছে। অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। আগ্রাসী যমুনা কয়েকদিন আগেও অনেক দূরে ছিল। এবার ভাঙতে ভাঙতে শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গিয়েছে। বিগত দিনে কয়েক গ্রামের মানুষ ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে মানববন্ধন করেও কোনও প্রতিকার পায়নি। তাই এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে টাকা তুলে বাঁশ দিয়ে বাঁধ দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন।

মন্নিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা  গ্রহণ না করলে কয়েক দিনের মধ্যেই বিলীন হয়ে যেতে পারে মুন্নিয়া ঐতিহ্যবাহী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানটি। আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা না হলে এ অঞ্চলে শিক্ষার মান পিছিয়ে যাবে।

দক্ষিণ মন্নিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার খানাম বলেন, আমার স্কুল থেকে কয়েক শ গজ দূরে নদীর অবস্থান। এই স্কুলে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাই।

সাবেক ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ফসলি জমিসহ অসংখ্য বসতঘর নদীতে চলে যাবে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। সরকার দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিলে আমরা এ অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ উপকৃত হবো।

বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক আকন্দ বলেন, অসময়ে নদীভাঙন আমাদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁশের বাঁধ দেবো। তারপরেও স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এ ব্যাপারে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান বলেন, যমুনার চর বিশাল একটি জায়গা| এখানে অল্প ডাম্পিংয়ে ভাঙন প্রতিরোধ হবে না। বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। সমীক্ষা করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

/এএম/
সম্পর্কিত
ঘরহারা দুই শতাধিক পরিবার
নদী ভাঙনে বদলে যাচ্ছে একটি জেলার মানচিত্র
নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থাপনার সুপারিশ
সর্বশেষ খবর
বাংলাবিজ: কেবল পোর্টাল নয়, চাই প্রকৃত প্রশাসনিক রূপান্তর 
বাংলাবিজ: কেবল পোর্টাল নয়, চাই প্রকৃত প্রশাসনিক রূপান্তর 
শেরপুরের পাহাড়ঘেরা এই তীর্থস্থানে মিলবে প্রকৃতি ও প্রশান্তির ছোঁয়া
শেরপুরের পাহাড়ঘেরা এই তীর্থস্থানে মিলবে প্রকৃতি ও প্রশান্তির ছোঁয়া
লিটনের স্ক্যানে বড় সমস্যা নেই
লিটনের স্ক্যানে বড় সমস্যা নেই
দিলীপ আগরওয়ালার ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন
দিলীপ আগরওয়ালার ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন
সর্বাধিক পঠিত
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: যা বললেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: যা বললেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির